এখন ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টুঙ্গিপাড়ার বর্নি দক্ষিণপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।

টুঙ্গিপাড়ায় র‍্যাবের অভিযানে খুলনার জোড়া হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

  • লুৎফর সিকদার
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬০০ পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: খুলনার লবণচরা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলার একটি মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬। রবিবার (২৩ আগস্ট) টুঙ্গিপাড়া থানার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ফারুক (২১) ও মাসুদুল ইসলাম কদর (১৮)। তারা খুলনার লবণচরা থানায় দায়ের করা মঞ্জুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে র‍্যাব জানিয়েছে।
র‍্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে টুঙ্গিপাড়ার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর ফারুক ও মাসুদুল ইসলাম কদরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রথমে সন্ধ্যার দিকে হরিণটানা আশিবিঘা এলাকার বালুর মাঠে দুর্বৃত্তদের হামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নিহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে শিশুবাগান আশিবিঘা এলাকায় নাজমুল (১৯) নামের আরেক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এসব ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান

মামলা দায়েরের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফারুক ও মাসুদুল ইসলাম কদরের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানের তথ্য পায় র‍্যাব-৬।
পরে র‍্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানির একটি দল টুঙ্গিপাড়া থানার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, একই জোড়া হত্যা মামলার ঘটনায় এর আগে পৃথক অভিযানে প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত আলামিন হাসান ওরফে সাইফিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এবার টুঙ্গিপাড়া থেকে আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার তদন্ত ও আসামিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

টুঙ্গিপাড়ার বর্নি দক্ষিণপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।

টুঙ্গিপাড়ায় র‍্যাবের অভিযানে খুলনার জোড়া হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: খুলনার লবণচরা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক হত্যা মামলার একটি মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬। রবিবার (২৩ আগস্ট) টুঙ্গিপাড়া থানার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ফারুক (২১) ও মাসুদুল ইসলাম কদর (১৮)। তারা খুলনার লবণচরা থানায় দায়ের করা মঞ্জুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে র‍্যাব জানিয়েছে।
র‍্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে টুঙ্গিপাড়ার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর ফারুক ও মাসুদুল ইসলাম কদরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনার লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবক হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রথমে সন্ধ্যার দিকে হরিণটানা আশিবিঘা এলাকার বালুর মাঠে দুর্বৃত্তদের হামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নিহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলামকে গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১০টার দিকে শিশুবাগান আশিবিঘা এলাকায় নাজমুল (১৯) নামের আরেক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই যুবকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এসব ঘটনায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান

মামলা দায়েরের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফারুক ও মাসুদুল ইসলাম কদরের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানের তথ্য পায় র‍্যাব-৬।
পরে র‍্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানির একটি দল টুঙ্গিপাড়া থানার বর্নি দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, একই জোড়া হত্যা মামলার ঘটনায় এর আগে পৃথক অভিযানে প্রধান আসামি হিসেবে পরিচিত আলামিন হাসান ওরফে সাইফিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এবার টুঙ্গিপাড়া থেকে আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার তদন্ত ও আসামিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।