এখন ০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাংবাদিককে ‘মব’ করে হেনস্তার অভিযোগ

চার খুনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে আটকে হেনস্তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ডিবি

  • রিয়াজুল হক সাগর
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৮৫ পড়া হয়েছে

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার। তার অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহ শেষে ঘটনাস্থলের পাশের এলাকায় যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেল আটকে চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক সেলিম সরকার একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার বিকেলে তিনজন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন।
সেলিম সরকারের ভাষ্য, এ সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। এরপর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ঘটনাস্থলে জড়ো করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন পার্থ দাস।

ব্যাগে ‘সন্দেহজনক কিছু’ থাকার অভিযোগ

সেলিম সরকার বলেন, পার্থ দাস তাকে নিয়ে অভিযোগ করেন যে তিনি গলির ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ সময় পার্থ দাস তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন সেলিম সরকার। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিক সেলিম সরকারের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের কাজে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় এবং স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে চাপের মুখে ফেলা হয়।

ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তখন সাংবাদিক সেলিম সরকারের সঙ্গে থাকা ব্যাগটি পরীক্ষা করার বিষয়টি সামনে আসে।
সেলিম সরকার জানান, ডিবি সদস্যরা তার ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করার পর সেখানে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। তার ব্যাগে কেবল সাংবাদিক হিসেবে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে সেলিম সরকার বলেন, ‘আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমার কাছে থাকা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু আছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করা হয়। পরে পুলিশ এসে ব্যাগটি পরীক্ষা করে। সেখানে কোনো সন্দেহজনক জিনিস পাওয়া যায়নি।’

মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটকে রেখে পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন। তার ভাষায়, এভাবে লোকজন জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
আলমগীর হোসেন বলেন, তারা কয়েকজন পার্থ দাসকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গেও রাগারাগি করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দোষারোপ করতে থাকেন।
তার দাবি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে এভাবে আটকে রেখে স্থানীয় লোকজনের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, মাছুয়াপাড়ার চার খুনের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যের মধ্যে থাকা অসংগতি বা পরস্পরবিরোধী তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা অনেক সময় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। এমনকি সাংবাদিকরা যাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে না পারেন, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক আরও বলেন, কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। সে কারণে ঘটনাস্থলে থাকা স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতা বা উগ্র আচরণ করা হলে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পুলিশের বক্তব্য কী

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন ঘটনার বিষয়ে বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই সাংবাদিকের ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে সাংবাদিকের ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু থাকার অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চার খুনের ঘটনায় তদন্ত চলছে

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসকে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে মব তৈরি করে হেনস্তার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের স্বাধীন পরিবেশও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পার্থ দাসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সাংবাদিককে ‘মব’ করে হেনস্তার অভিযোগ

চার খুনের ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে আটকে হেনস্তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ডিবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার। তার অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহ শেষে ঘটনাস্থলের পাশের এলাকায় যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেল আটকে চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক সেলিম সরকার একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য শনিবার বিকেলে তিনজন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন।
সেলিম সরকারের ভাষ্য, এ সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। এরপর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ঘটনাস্থলে জড়ো করেন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে থাকেন পার্থ দাস।

ব্যাগে ‘সন্দেহজনক কিছু’ থাকার অভিযোগ

সেলিম সরকার বলেন, পার্থ দাস তাকে নিয়ে অভিযোগ করেন যে তিনি গলির ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ সময় পার্থ দাস তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন সেলিম সরকার। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
সাংবাদিক সেলিম সরকারের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের কাজে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় এবং স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে চাপের মুখে ফেলা হয়।

ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তখন সাংবাদিক সেলিম সরকারের সঙ্গে থাকা ব্যাগটি পরীক্ষা করার বিষয়টি সামনে আসে।
সেলিম সরকার জানান, ডিবি সদস্যরা তার ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করার পর সেখানে সন্দেহজনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। তার ব্যাগে কেবল সাংবাদিক হিসেবে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে সেলিম সরকার বলেন, ‘আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমার কাছে থাকা ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু আছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করা হয়। পরে পুলিশ এসে ব্যাগটি পরীক্ষা করে। সেখানে কোনো সন্দেহজনক জিনিস পাওয়া যায়নি।’

মব তৈরি করে হেনস্তা করা হয়েছে’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেন বলেন, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটকে রেখে পার্থ দাস স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করেন। তার ভাষায়, এভাবে লোকজন জড়ো করে সাংবাদিককে হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
আলমগীর হোসেন বলেন, তারা কয়েকজন পার্থ দাসকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গেও রাগারাগি করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দোষারোপ করতে থাকেন।
তার দাবি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে এভাবে আটকে রেখে স্থানীয় লোকজনের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তার পরিস্থিতি তৈরি করা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, মাছুয়াপাড়ার চার খুনের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই পার্থ দাস এবং তার বাবা বিনয় দাস বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যের মধ্যে থাকা অসংগতি বা পরস্পরবিরোধী তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা অনেক সময় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। এমনকি সাংবাদিকরা যাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে না পারেন, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক আরও বলেন, কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। সে কারণে ঘটনাস্থলে থাকা স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতা বা উগ্র আচরণ করা হলে প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পুলিশের বক্তব্য কী

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন ঘটনার বিষয়ে বলেন, খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই সাংবাদিকের ব্যাগ খুলে দেখেন। ব্যাগে সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে সাংবাদিকের ব্যাগে সন্দেহজনক কিছু থাকার অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চার খুনের ঘটনায় তদন্ত চলছে

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসকে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে মব তৈরি করে হেনস্তার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহের স্বাধীন পরিবেশও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পার্থ দাসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।