
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ পুরিয়া গাঁজাসহ এক নারী ও তার ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এক শিশুর মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরামবাগের গোহাটা ব্রিজসংলগ্ন মানিক সিকদার সড়কের ৩৫৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি বাসায় ওই নারী তার ছেলেকে নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে ভাড়া থাকছিলেন। বাড়িটির মালিক ছিলেন মৃত এস এম আনোয়ার হোসেন।
অভিযানে গাঁজা উদ্ধারের দাবি
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে ১০ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নারী ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাসায় মা ও ছেলে মাদক সেবন করতেন। মাদক সেবনের পর ঘরের ভেতরে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও নাচেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুর মাদক-সম্পৃক্ততার অভিযোগে উদ্বেগ
১৩ বছর বয়সী একটি শিশুকে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ বয়সে একটি শিশুর পড়াশোনা, খেলাধুলা ও স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কথা। সেখানে মাদকের সংস্পর্শে আসার অভিযোগ শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে বিষয়টিকে শুধু আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। শিশুটির নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শিশুদের মাদকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের মাদকের সংস্পর্শে আসার পেছনে পারিবারিক পরিবেশ, অসৎ সঙ্গ, সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্ত পরিবারের সদস্য এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মাদক-সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলে তার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করাও জরুরি। প্রয়োজন হলে শিশুটিকে সুরক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার দাবি
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকদের আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, ভাড়াটিয়ার পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে বাসা ভাড়া দেওয়া এবং পরবর্তীতে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। আবাসিক এলাকায় মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড চললে তা আশপাশের বাসিন্দা, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, গোপালগঞ্জ শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু মাদক উদ্ধার ও ব্যক্তিকে আটক নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষ করে কোনো শিশু যদি পরিবারের সদস্য বা আশপাশের পরিবেশের মাধ্যমে মাদকের সংস্পর্শে আসে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনগত ব্যবস্থা কী হবে?
আটক নারী ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
এদিকে, কোনো অভিযোগ বা মামলায় দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার নীতিও প্রযোজ্য। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তার বয়স, ভূমিকা ও সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গোপালগঞ্জের আরামবাগসহ শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে কোনো শিশুকে যেন মাদকের ভয়াবহতার মধ্যে হারিয়ে যেতে না হয়, সে জন্য পরিবার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।















