এখন ০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেল

হাজারীবাগে কথিত মাদক নেটওয়ার্ক: রাজেশ-নিখিলকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় কথিত মাদক নেটওয়ার্ক ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের দাবি, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেল নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে ওই এলাকার কথিত মাদক ব্যবসা ও অপরাধী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ বাজার, সেকশন ঢালসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার কথিত ব্যবসার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেলের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজেশ গনির সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
সূত্রগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজেশ বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি নেতা ও ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি আলী নেওয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এলাকায় নিজের প্রভাব বাড়ানো এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

‘পুলিশের সোর্স’ হিসেবে নিখিলের কথিত ভূমিকা

নিখিল ওরফে সোহেলকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাজারীবাগ এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিখিল আওয়ামী লীগের হয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর কিছু সময় তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে ছিলেন না। পরে রাজেশের সহযোগিতায় আবার পুলিশের কথিত সোর্স হিসেবে এলাকায় সক্রিয় হন।
তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কিংবা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে কথিত যোগাযোগকে ব্যবহার করে নিখিল প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেওয়ানোর চেষ্টা করেন। আবার কোনো কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজেশ ও নিখিলের কথিত প্রভাবের কারণে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কে সক্রিয় থাকবে এবং কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পড়বে—এমন বিষয়েও তারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা-ই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শাহজাহান, স্বপন ও কালা মানিককে ঘিরেও অভিযোগ
হাজারীবাগের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহজাহান আলী, স্বপন ও কালা মানিক নামে কয়েকজনকে ঘিরেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তারা রাজেশ ও নিখিলের কথিত নেটওয়ার্কের হয়ে এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, হাজারীবাগের পাশাপাশি নবাবগঞ্জ বাজার, সেকশন ঢাল এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এ ধরনের কথিত কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার তরুণদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তারা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

‘ডন সাগর’কে ঘিরে নতুন অভিযোগ

রাজেশ-নিখিলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ‘ডন সাগর’ নামে পরিচিত এক কিশোর গ্যাং সদস্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সাগরের এক স্বজনের দাবি, একসময় ওই তরুণ সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে ওই স্বজনের অভিযোগ।
তার দাবি, রাজেশ ও নিখিল একসময় সাগরকে কথিত মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়।
ওই স্বজন আরও অভিযোগ করেন, বিরোধের পর রাজেশ ও নিখিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত যোগাযোগ ব্যবহার করে সাগরকে গ্রেপ্তার করানোর ব্যবস্থা করেন।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, পুলিশের বক্তব্য কিংবা আদালতের নথি ছাড়া এ অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

হাজারীবাগ-লালবাগে পাঁচ ফ্ল্যাট থাকার দাবি

রাজেশকে ঘিরে ওঠা আরেকটি অভিযোগ হলো—হাজারীবাগ ও লালবাগ এলাকায় তার অন্তত পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব সম্পত্তি ও স্থানীয় যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। তবে কথিত এসব সম্পত্তির মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা অর্থের উৎস সম্পর্কে যাচাইযোগ্য দলিল এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
ফলে এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

সূত্রগুলোর দাবি, নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে রাজেশ বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ তৈরি করেছেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক ভূমিকা রেখেছে বলে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।
তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা নিজেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। রাজনৈতিক বা পেশাগত যোগাযোগের সঙ্গে মাদক ব্যবসার অভিযোগের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ বাজার ও সেকশন ঢাল এলাকার বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের একটি অংশ মাদক ব্যবসার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার কথিত ব্যবসার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুলিশের সোর্স ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীর একটি এলাকায় যদি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এমন নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগ থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?

হাজারীবাগ থানার বক্তব্য

রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং নিখিলের কথিত পুলিশ সোর্স হিসেবে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেল

হাজারীবাগে কথিত মাদক নেটওয়ার্ক: রাজেশ-নিখিলকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় কথিত মাদক নেটওয়ার্ক ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের দাবি, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেল নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে ওই এলাকার কথিত মাদক ব্যবসা ও অপরাধী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ বাজার, সেকশন ঢালসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার কথিত ব্যবসার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেলের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজেশ গনির সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
সূত্রগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজেশ বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি নেতা ও ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি আলী নেওয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এলাকায় নিজের প্রভাব বাড়ানো এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

‘পুলিশের সোর্স’ হিসেবে নিখিলের কথিত ভূমিকা

নিখিল ওরফে সোহেলকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাজারীবাগ এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিখিল আওয়ামী লীগের হয়ে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর কিছু সময় তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে ছিলেন না। পরে রাজেশের সহযোগিতায় আবার পুলিশের কথিত সোর্স হিসেবে এলাকায় সক্রিয় হন।
তবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কিংবা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে কথিত যোগাযোগকে ব্যবহার করে নিখিল প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেওয়ানোর চেষ্টা করেন। আবার কোনো কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, রাজেশ ও নিখিলের কথিত প্রভাবের কারণে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কে সক্রিয় থাকবে এবং কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পড়বে—এমন বিষয়েও তারা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা-ই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শাহজাহান, স্বপন ও কালা মানিককে ঘিরেও অভিযোগ
হাজারীবাগের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহজাহান আলী, স্বপন ও কালা মানিক নামে কয়েকজনকে ঘিরেও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তারা রাজেশ ও নিখিলের কথিত নেটওয়ার্কের হয়ে এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, হাজারীবাগের পাশাপাশি নবাবগঞ্জ বাজার, সেকশন ঢাল এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এ ধরনের কথিত কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদকের বিস্তার তরুণদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তারা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

‘ডন সাগর’কে ঘিরে নতুন অভিযোগ

রাজেশ-নিখিলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ‘ডন সাগর’ নামে পরিচিত এক কিশোর গ্যাং সদস্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সাগরের এক স্বজনের দাবি, একসময় ওই তরুণ সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে ওই স্বজনের অভিযোগ।
তার দাবি, রাজেশ ও নিখিল একসময় সাগরকে কথিত মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়।
ওই স্বজন আরও অভিযোগ করেন, বিরোধের পর রাজেশ ও নিখিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত যোগাযোগ ব্যবহার করে সাগরকে গ্রেপ্তার করানোর ব্যবস্থা করেন।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি, পুলিশের বক্তব্য কিংবা আদালতের নথি ছাড়া এ অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

হাজারীবাগ-লালবাগে পাঁচ ফ্ল্যাট থাকার দাবি

রাজেশকে ঘিরে ওঠা আরেকটি অভিযোগ হলো—হাজারীবাগ ও লালবাগ এলাকায় তার অন্তত পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব সম্পত্তি ও স্থানীয় যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন। তবে কথিত এসব সম্পত্তির মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা অর্থের উৎস সম্পর্কে যাচাইযোগ্য দলিল এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
ফলে এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

সূত্রগুলোর দাবি, নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে রাজেশ বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ তৈরি করেছেন। ইত্তেফাকের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক ভূমিকা রেখেছে বলে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।
তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা নিজেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। রাজনৈতিক বা পেশাগত যোগাযোগের সঙ্গে মাদক ব্যবসার অভিযোগের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ বাজার ও সেকশন ঢাল এলাকার বাসিন্দা এবং অভিভাবকদের একটি অংশ মাদক ব্যবসার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার কথিত ব্যবসার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুলিশের সোর্স ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীর একটি এলাকায় যদি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের এমন নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগ থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে?

হাজারীবাগ থানার বক্তব্য

রাজেশ গনি ও নিখিল ওরফে সোহেলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং নিখিলের কথিত পুলিশ সোর্স হিসেবে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।