
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে ভূমি কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করার অভিযোগে দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় বিষয়টি সামনে আসে।
আকস্মিক পরিদর্শনে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে পৌঁছান। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী হাজিরা খাতা পরীক্ষা করে দেখতে পান, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তখনও অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। অথচ ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর আগে থেকেই করা ছিল। বিষয়টি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া উপস্থিত হন। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাও কার্যালয়ে আসেন।
দুই এসিল্যান্ডসহ ২০ জনকে শোকজ
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা জানান, সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুই এসিল্যান্ডকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে শোকজ পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ২০ জন।
শোকজ পাওয়া দুই এসিল্যান্ড হলেন—
সাদিয়া আক্তার — সহকারী কমিশনার (ভূমি), নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা
অংমাচিং মারমা — সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল
যাদের শোকজ করা হয়েছে
সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের শোকজ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন এবং গাড়িচালক নাদিম হায়দার।
সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ এবং চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করা সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন।
নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানিয়েছেন, ভূমি কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শোকজ পাওয়া সবাই যে একইভাবে দোষ করেছেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি ভূমি সেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ঘটনা প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।















