এখন ০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রংপুরে গলা কেটে অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে গলা কেটে অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

  • রিয়াজুল হক সাগর
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৬৯ পড়া হয়েছে

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান (৬৫) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বিয়ে, তালাক ও টাকা-পয়সার বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার পূর্বখাসবাগ এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার ফিরোজা বেগম (৫৫) ও রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

র‌্যাব-১৩ সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে মাহিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ফিরোজা বেগম ও রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

র‌্যাব জানায়, তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় আব্দুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৩। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিয়ে, তালাক ও টাকা নিয়ে বিরোধ

র‌্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। অন্যদিকে দুলাল মিয়া নিহত আব্দুর রহমানের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন।

প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর দুলাল মিয়া মধ্যস্থতা করে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ে দেন বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে বিয়ের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই আব্দুর রহমান ও ফিরোজা বেগমের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফিরোজা বেগম সংসার করবেন না বলে জানান। পরে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক হয়।

কাবিনের টাকা ও অটোরিকশা নিয়ে দ্বন্দ্ব

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় দুলাল মিয়া আব্দুর রহমানকে দুটি অটোরিকশা দেওয়ার কথা বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তালাকের পর ফিরোজা বেগমের কাবিনের ৫০ হাজার টাকা দুলাল মিয়া নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর হত্যাকাণ্ডের আগের দিন অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজা বেগমের কাছে আরও চার হাজার টাকা চান দুলাল মিয়া। ফিরোজা টাকা না দিলেও একটি অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, এ ঘটনার পর দুলাল মিয়া ও ফিরোজা বেগমের সঙ্গে রেজাউল ইসলামও যুক্ত হন। পরে তিনজন পরস্পর যোগসাজশে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

থানায় হস্তান্তর

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

রংপুরে গলা কেটে অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে গলা কেটে অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমান (৬৫) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বিয়ে, তালাক ও টাকা-পয়সার বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার পূর্বখাসবাগ এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার ফিরোজা বেগম (৫৫) ও রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

র‌্যাব-১৩ সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে মাহিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ফিরোজা বেগম ও রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

র‌্যাব জানায়, তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় আব্দুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে তাজহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

মামলার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৩। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিয়ে, তালাক ও টাকা নিয়ে বিরোধ

র‌্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। অন্যদিকে দুলাল মিয়া নিহত আব্দুর রহমানের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন।

প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর দুলাল মিয়া মধ্যস্থতা করে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ে দেন বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে বিয়ের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই আব্দুর রহমান ও ফিরোজা বেগমের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফিরোজা বেগম সংসার করবেন না বলে জানান। পরে দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক হয়।

কাবিনের টাকা ও অটোরিকশা নিয়ে দ্বন্দ্ব

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় দুলাল মিয়া আব্দুর রহমানকে দুটি অটোরিকশা দেওয়ার কথা বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তালাকের পর ফিরোজা বেগমের কাবিনের ৫০ হাজার টাকা দুলাল মিয়া নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর হত্যাকাণ্ডের আগের দিন অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজা বেগমের কাছে আরও চার হাজার টাকা চান দুলাল মিয়া। ফিরোজা টাকা না দিলেও একটি অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, এ ঘটনার পর দুলাল মিয়া ও ফিরোজা বেগমের সঙ্গে রেজাউল ইসলামও যুক্ত হন। পরে তিনজন পরস্পর যোগসাজশে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

থানায় হস্তান্তর

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।