এখন ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধর্ষণের অভিযোগের একদিন পর ৩৬ বাড়ি কলোনিতে উদ্ধার গলাকাটা মরদেহ; তদন্তে পুলিশ ও পিবিআই

ময়মনসিংহে মায়ের ধর্ষণের অভিযোগের পর অভিযুক্তকে গলা কেটে হত্যা, জিজ্ঞাসাবাদে দুইজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ নগরীতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর অভিযুক্ত যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর আকুয়া এলাকার ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামের ওই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি প্রায় এক মাস ধরে ৩৬ বাড়ি কলোনিতে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার একই বাসার এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রুবেলের বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে শনিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
রোববার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শনিবার এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে অভিযুক্ত রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। এ ঘটনায় মো. রনি মিয়া (২৭) ও স্বজল (৩৫) নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ড—দুই ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ধর্ষণের অভিযোগের একদিন পর ৩৬ বাড়ি কলোনিতে উদ্ধার গলাকাটা মরদেহ; তদন্তে পুলিশ ও পিবিআই

ময়মনসিংহে মায়ের ধর্ষণের অভিযোগের পর অভিযুক্তকে গলা কেটে হত্যা, জিজ্ঞাসাবাদে দুইজন

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ নগরীতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর অভিযুক্ত যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর আকুয়া এলাকার ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামের ওই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি প্রায় এক মাস ধরে ৩৬ বাড়ি কলোনিতে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার একই বাসার এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রুবেলের বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে শনিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
রোববার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, শনিবার এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর চার ছেলে অভিযুক্ত রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। এ ঘটনায় মো. রনি মিয়া (২৭) ও স্বজল (৩৫) নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ড—দুই ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।