এখন ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জের উলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

  • লুৎফর সিকদার
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ৬২৫ পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জের উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে খনন করা পুকুরের দৃশ্য

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন এবং সেই মাটি ব্যক্তিগত ঠিকাদারি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনের সরকারি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেই এই খননকাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারী তার লিখিত আবেদনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে সদ্য খনন করা একটি পুকুর রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক খননকৃত জায়গাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি বলে স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুল ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই পুকুর খনন করেন এবং খননকৃত মাটি তার নিজস্ব ঠিকাদারি প্রকল্পে ব্যবহার করেন।

উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের নিজস্ব একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) রয়েছে। সেটি ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে পুকুর খনন করা হয়েছে। এছাড়া উলপুর থেকে সিকিপাড়া পর্যন্ত এমবিআর চ্যানেলের পাড়ে একাধিক বড় পুকুর খননের অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব পুকুরের মাটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরে সেখানে মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নির্মিত কয়েকটি দোকান থেকে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া তোতা মিয়া মোল্লা অভিযোগ করেন, সাবেক এক জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বন্দোবস্ত পাওয়া তার ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে ১৩ শতাংশ জমি চেয়ারম্যান জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

গোপালগঞ্জের উলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে অবৈধ পুকুর খননের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন এবং সেই মাটি ব্যক্তিগত ঠিকাদারি কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনের সরকারি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেই এই খননকাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারী তার লিখিত আবেদনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেছেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে সদ্য খনন করা একটি পুকুর রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক খননকৃত জায়গাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি বলে স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুল ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এই পুকুর খনন করেন এবং খননকৃত মাটি তার নিজস্ব ঠিকাদারি প্রকল্পে ব্যবহার করেন।

উলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এলাকার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যানের নিজস্ব একটি এক্সকাভেটর (ভেকু) রয়েছে। সেটি ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পেছনে পুকুর খনন করা হয়েছে। এছাড়া উলপুর থেকে সিকিপাড়া পর্যন্ত এমবিআর চ্যানেলের পাড়ে একাধিক বড় পুকুর খননের অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব পুকুরের মাটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরে সেখানে মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নির্মিত কয়েকটি দোকান থেকে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া তোতা মিয়া মোল্লা অভিযোগ করেন, সাবেক এক জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বন্দোবস্ত পাওয়া তার ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে ১৩ শতাংশ জমি চেয়ারম্যান জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বাবুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।