
নিউজ ডেস্কঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া ইউনিয়নের খাড়াকান্দি এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এনায়েত শিকদার (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনায়েত শিকদার ও তার মামাতো ভাই জাবেদের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত রবিবার জাবেদ লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক সীমানা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে এনায়েত বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আউয়াল শিকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আগামী মঙ্গলবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত দেন। উভয় পক্ষ এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই নিলটেক এলাকায় পৌঁছালে জাবেদ তার সহযোগী নজিমুদ্দিন, আসলাম ও আশিকসহ আরও ৫-৬ জনকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ এনায়েত শিকদারের ওপর হামলা চালায়। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জাবেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য কলাতিয়া ফাঁড়িকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়ভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সালিশ প্রথা দীর্ঘদিনের হলেও অনেক সময় তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। কেরানীগঞ্জের এ ঘটনাও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















