এখন ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আবুল সরকারের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা—আহত অন্তত ৩, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

মানিকগঞ্জে বাউল সমর্থকদের ওপর তৌহিদী জনতার হামলা: জীবন বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিলেন শিল্পীরা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল (চোটো) সরকারের সমর্থকদের ওপর তৌহিদী জনতার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
হামলা থেকে বাঁচতে কয়েকজন বাউল শিল্পী ও তাদের সমর্থক পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। আহত হয়েছেন অন্তত ৩–৪ জন।

কীভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ?

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মামলা হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর প্রতিবাদে তার সমর্থকরা মানববন্ধন করতে গেলে একই সময় “তৌহিদী জনতা” ব্যানারে একটি মিছিল এলাকায় প্রবেশ করে। উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে আশ্রয়
হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে আশ্রয়

হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে ঝাঁপ –

হামলার সময় কয়েকজন শিল্পী ও সমর্থককে তৌহিদী জনতার সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করে—এমন অভিযোগ উঠে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে।
চাপের মুখে পড়ে একদল সমর্থক পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

আহত ৩–৪ জন হাসপাতালে ভর্তি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় আহত ৩ জনকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত ও একজনের হাতে ভাঙা ক্ষত দেখা গেছে।
আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উভয় পক্ষের অভিযোগ–প্রতিবাদ

বাউল সমর্থকদের দাবি—

“আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে গিয়েছিলাম। তৌহিদী জনতার লোকজন এসে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়।”

অন্যদিকে তৌহিদী জনতা বলছে—

“আমরা ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে শান্তিপূর্ণভাবে এসেছিলাম। উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে অন্য পক্ষ।”

পুলিশের অবস্থান

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন—

“উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন এলাকা শান্ত আছে।”

তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংস্কৃতি বনাম ধর্মীয় উগ্রতা—উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে

স্থানীয় কয়েকজনের মতে, বাউল গান ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রতার এই সংঘর্ষ মানিকগঞ্জে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাউল শিল্পীরা বহু বছর ধরে এলাকায় আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করে আসছেন। তাদের ওপর হামলা হওয়ায় সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত।

আইনি প্রক্রিয়া শুরু

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আবুল সরকারের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা—আহত অন্তত ৩, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ

মানিকগঞ্জে বাউল সমর্থকদের ওপর তৌহিদী জনতার হামলা: জীবন বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিলেন শিল্পীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল (চোটো) সরকারের সমর্থকদের ওপর তৌহিদী জনতার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।
হামলা থেকে বাঁচতে কয়েকজন বাউল শিল্পী ও তাদের সমর্থক পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। আহত হয়েছেন অন্তত ৩–৪ জন।

কীভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ?

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মামলা হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এর প্রতিবাদে তার সমর্থকরা মানববন্ধন করতে গেলে একই সময় “তৌহিদী জনতা” ব্যানারে একটি মিছিল এলাকায় প্রবেশ করে। উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা দ্রুতই সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে আশ্রয়
হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে আশ্রয়

হামলা থেকে বাঁচতে পানিতে ঝাঁপ –

হামলার সময় কয়েকজন শিল্পী ও সমর্থককে তৌহিদী জনতার সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করে—এমন অভিযোগ উঠে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে।
চাপের মুখে পড়ে একদল সমর্থক পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

আহত ৩–৪ জন হাসপাতালে ভর্তি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় আহত ৩ জনকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত ও একজনের হাতে ভাঙা ক্ষত দেখা গেছে।
আরও কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উভয় পক্ষের অভিযোগ–প্রতিবাদ

বাউল সমর্থকদের দাবি—

“আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে গিয়েছিলাম। তৌহিদী জনতার লোকজন এসে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়।”

অন্যদিকে তৌহিদী জনতা বলছে—

“আমরা ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে শান্তিপূর্ণভাবে এসেছিলাম। উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে অন্য পক্ষ।”

পুলিশের অবস্থান

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন—

“উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন এলাকা শান্ত আছে।”

তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংস্কৃতি বনাম ধর্মীয় উগ্রতা—উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে

স্থানীয় কয়েকজনের মতে, বাউল গান ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রতার এই সংঘর্ষ মানিকগঞ্জে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাউল শিল্পীরা বহু বছর ধরে এলাকায় আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করে আসছেন। তাদের ওপর হামলা হওয়ায় সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত।

আইনি প্রক্রিয়া শুরু

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।