
জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে। আহত মাহামুদ আলম প্রধান ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগে শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে অর্ধদিবস ছুটি শেষে তিনি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাজের আগে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে এক আসামির বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তার পথরোধ করে। এরপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে গলা থেকে পা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে।
শিক্ষকের অভিযোগ, এ সময় তার স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করারও হুমকি দেওয়া হয়।
মাহামুদ আলম প্রধানের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, তিনি মোবাইলে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তবে এর আগেই ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত আনসার আলী মোবাইল ফোনে বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।”
আহত শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, “ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















