এখন ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দিনাজপুরের হিলি থানা মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মায়ের অপেক্ষায় কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই শিশু; পুলিশ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে, পরিবারের সন্ধানে চলছে তৎপরতা।

‘থাকো, টাকা নিয়ে আসি’ বলে দুই শিশু কন্যাকে রেখে উধাও মা, হিলিতে উদ্ধার করল পুলিশ

  • রিয়াজুল হক সাগর
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯৬ পড়া হয়েছে

রংপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হিলিতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় দুই শিশু কন্যাকে রাস্তার পাশে রেখে উধাও হয়ে গেছেন তাদের মা। যাওয়ার সময় শিশুদের উদ্দেশে তিনি শুধু বলেছিলেন, “থাকো, টাকা নিয়ে আসি।” কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। মায়ের অপেক্ষায় অসহায় দুই শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হিলি থানা মোড়ের পরিবেশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হিলি বন্দরের ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার পাশে দুই শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে একা বসে কাঁদতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা শিশুদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে শিশুরা জানায়, তাদের মা টাকা আনতে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেননি। পরে বিষয়টি হাকিমপুর থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বর্তমানে শিশু দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা জীবন ঢাকায় থাকেন এবং তিনি মাদকাসক্ত। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের মা শাহনাজ ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বড় দুই মেয়ে জিমি ও জান্নাতিকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় শিশুদের বলেন, “থাকো, টাকা নিয়ে আসি।”
ওসি আরও জানান, শিশুদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়। তাদের দাদা-দাদী জীবিত রয়েছেন। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত করে শিশুদের নিরাপদে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে শিশুদের মায়ের সন্ধানেও কাজ করছে পুলিশ। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান কোথায়—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক সংকটের চিত্র নয়, বরং দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার একটি করুণ প্রতিফলন। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

দিনাজপুরের হিলি থানা মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মায়ের অপেক্ষায় কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই শিশু; পুলিশ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে, পরিবারের সন্ধানে চলছে তৎপরতা।

‘থাকো, টাকা নিয়ে আসি’ বলে দুই শিশু কন্যাকে রেখে উধাও মা, হিলিতে উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রংপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হিলিতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় দুই শিশু কন্যাকে রাস্তার পাশে রেখে উধাও হয়ে গেছেন তাদের মা। যাওয়ার সময় শিশুদের উদ্দেশে তিনি শুধু বলেছিলেন, “থাকো, টাকা নিয়ে আসি।” কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। মায়ের অপেক্ষায় অসহায় দুই শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হিলি থানা মোড়ের পরিবেশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হিলি বন্দরের ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার পাশে দুই শিশুকে দীর্ঘ সময় ধরে একা বসে কাঁদতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা শিশুদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে শিশুরা জানায়, তাদের মা টাকা আনতে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে আসেননি। পরে বিষয়টি হাকিমপুর থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বর্তমানে শিশু দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশু দুটির বাবা জীবন ঢাকায় থাকেন এবং তিনি মাদকাসক্ত। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে শিশুদের মা শাহনাজ ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বড় দুই মেয়ে জিমি ও জান্নাতিকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় শিশুদের বলেন, “থাকো, টাকা নিয়ে আসি।”
ওসি আরও জানান, শিশুদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায়। তাদের দাদা-দাদী জীবিত রয়েছেন। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত করে শিশুদের নিরাপদে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে শিশুদের মায়ের সন্ধানেও কাজ করছে পুলিশ। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তার বর্তমান অবস্থান কোথায়—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক সংকটের চিত্র নয়, বরং দারিদ্র্য, পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার একটি করুণ প্রতিফলন। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।