এখন ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পরিবারের দাবি, পূর্বের হত্যা মামলার জের থাকতে পারে; একজন আটক, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার ফজলুল হকের মৃত্যু, সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হওয়া ফজলুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) রাত প্রায় ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি এক নারীকে লাঞ্ছিত করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ফজলুল হক ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা নারীকে ছেড়ে দিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুল হককে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে ঘটনার দুই দিন পর, রবিবার সকালে, তিনি রক্তবমি শুরু করলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফজলুল হক জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সৈয়দপাড়ায় মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে এসআই তারেকের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনায় নোবেল, তার বাবা রমজান শেখ, রবিন, অনন্ত ও মিলনসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত নোবেল স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দল গড়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের মেয়ে জানান, প্রায় এক বছর আগে তার ভাইকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। মামলার এক আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তার ধারণা, পূর্বের সেই বিরোধের জেরেও এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

পরিবারের দাবি, পূর্বের হত্যা মামলার জের থাকতে পারে; একজন আটক, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের শিকার ফজলুল হকের মৃত্যু, সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক নারীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হওয়া ফজলুল হক (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) রাত প্রায় ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি এক নারীকে লাঞ্ছিত করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় ফজলুল হক ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা নারীকে ছেড়ে দিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুল হককে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে ঘটনার দুই দিন পর, রবিবার সকালে, তিনি রক্তবমি শুরু করলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফজলুল হক জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সৈয়দপাড়ায় মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে এসআই তারেকের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার ঘটনায় নোবেল, তার বাবা রমজান শেখ, রবিন, অনন্ত ও মিলনসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত নোবেল স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দল গড়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের মেয়ে জানান, প্রায় এক বছর আগে তার ভাইকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। ওই মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। মামলার এক আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তার ধারণা, পূর্বের সেই বিরোধের জেরেও এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, “ঘটনার পর থেকেই পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।