এখন ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ; অভিযুক্তের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসায় অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, উদ্বেগে অভিভাবকরা; ২৬ ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

  • মোঃ হারুন উর রশীদ
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯৭ পড়া হয়েছে

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা এলাকায় অবস্থিত একটি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। ইতোমধ্যে গত দুই দিনে অন্তত ২৬ জন ছাত্রীকে তাঁদের অভিভাবকেরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র, অভিভাবক এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা এলাকার ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন মুহতামিম, চারজন আলেমা শিক্ষিকা এবং মোট ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই গত দুই দিনে ২৬ জন ছাত্রীকে তাঁদের অভিভাবকেরা বাড়িতে নিয়ে যান।
একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযোগের পর থেকে তাঁরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অভিভাবক আল মামুন ও আবুল হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অনেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রব বলেন, অভিযোগের পর মাদ্রাসায় স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। এরপর কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ। তিনি বলেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মাদ্রাসাবিরোধী একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ ছড়াচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিভাবকদের আস্থা নিশ্চিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ; অভিযুক্তের দাবি ‘ষড়যন্ত্র’, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

কালিগঞ্জে মহিলা মাদ্রাসায় অনৈতিক আচরণের অভিযোগ, উদ্বেগে অভিভাবকরা; ২৬ ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা এলাকায় অবস্থিত একটি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিমের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর থেকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। ইতোমধ্যে গত দুই দিনে অন্তত ২৬ জন ছাত্রীকে তাঁদের অভিভাবকেরা মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র, অভিভাবক এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া হাটখোলা এলাকার ধলবাড়িয়া দারুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন মুহতামিম, চারজন আলেমা শিক্ষিকা এবং মোট ৫১ জন ছাত্রী অধ্যয়ন করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ জুন গভীর রাতে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রী ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই গত দুই দিনে ২৬ জন ছাত্রীকে তাঁদের অভিভাবকেরা বাড়িতে নিয়ে যান।
একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযোগের পর থেকে তাঁরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অভিভাবক আল মামুন ও আবুল হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও কাইয়ুমসহ অনেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রব বলেন, অভিযোগের পর মাদ্রাসায় স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। এরপর কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ আবু সাঈদ। তিনি বলেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মাদ্রাসাবিরোধী একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ ছড়াচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিভাবকদের আস্থা নিশ্চিত হয়।