এখন ০২:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাবি ছাত্রীসহ তিনজন নিহত, গুরুতর আহত কলেজছাত্রী ইকরা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত ৭ পুলিশ সদস্য

: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। আহত ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে শাহিনুর বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার স্বামী মো. কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত যুবক বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার মেয়েদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম ও তার ছোট মেয়ে শিফা নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার মারা যান। আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আহত ইকরার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন এবং একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনির পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আবু তারেক। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

ঢাবি ছাত্রীসহ তিনজন নিহত, গুরুতর আহত কলেজছাত্রী ইকরা; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত ৭ পুলিশ সদস্য

: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। আহত ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবক অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে শাহিনুর বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার স্বামী মো. কামাল হোসেনের মৃত্যু হলে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত যুবক বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার মেয়েদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম ও তার ছোট মেয়ে শিফা নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে নেওয়া হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার মারা যান। আহত ইকরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। আহত ইকরার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন এবং একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনির পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আবু তারেক। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।