
বিশেষ সংবাদদাতাঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত পিয়ার আলী উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি। তিনি আরশদ আলীর ছেলে। অভিযানের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
কীভাবে অভিযান পরিচালিত হয়
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ দল জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে পিয়ার আলীর বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—
১টি বিদেশি পিস্তল
২টি বিদেশি রিভলভার
১টি একনলা বন্দুক
১টি দেশীয় পাইপগান
১৩ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গুলি
১৪ বক্স ক্যালিবারের এয়ারগানের গুলি
১টি খালি পিস্তলের ম্যাগাজিন
দেশীয় তৈরি বিভিন্ন ধারালো প্রাণঘাতী অস্ত্র
পরে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলা ও পুলিশের বক্তব্য
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে।
তিনি বলেন, “অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গুরুত্ব
স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযান অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি—এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।















