তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ ব্যবসায়ীরা। “বানিজ্য সংগঠন বিধিমালা-১৯৯৪” কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজেদের পকেট ভরতে নানা অনিয়মে জড়িয়েছেন নতুন কমিটি’র একশ্রেণীর নেতা। এনিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিয়ম মাফিকভাবে প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীরা কখনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, ভোট দেয়াতো দূরের কথা। প্রহসনের নির্বাচনে নির্ধারিত ব্যক্তিরাই বার বার হন নির্বাচিত। ২০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিবছর ২০ জন নমিনেশন উত্তোলন করেন যদিও বা দু’একজন অতিরিক্ত তুলে থাকেন সেটিও একটি খেলা কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁরা তাঁদের নমিনেশন প্রত্যাহার করেন। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় প্রতিবারই আগের কমিটির নেতারাই নির্বাচিত হচ্ছেন. কেউ কেউ তো আজীবনের জন্য পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হয়ে গেছেন। প্রতিবার নির্বাচনে নমিনেশনের সময় আসলেই দেখা যায় বহিরাগত কিছু ব্যক্তি চেম্বার ঘিরে রাখে যাতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ নমিনেশন তুলতে না পারেন। এবারের নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার নির্বাচনেও (২০২৩-২৬) যারা নমিনেশন তুলতে গেছেন তাদের যেমন বাধা দেওয়া হয়েছে তেমনি তাঁদের নানা ধরণের অপ্রয়োজনীয় কাগজ এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদায় করে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ি বলেন, চেম্বারের আদিকাল থেকেই সদস্যপদ নবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব ফি প্রদানের রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম। বিলম্ব ফি যেমন সদস্য ঝরে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে তেমনি চেম্বারের এটি একটি বাড়তি আয়, কিন্তু কিছু অযোগ্য সদস্য অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে চেম্বারকে বিতর্কিত করা হয় বিলম্ব ফি কমিয়ে।
রাজশাহীর জনগণ তথা রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের কাছে “রাজশাহী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা” ছিল দেশী বিদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা উন্নয়নের একটি সুযোগ, যা অজানা কারণে বন্ধ করে উদ্যোক্তার নামে নারী সদস্যদের নিয়ে মেলা করার ব্যবসায় মেতে উঠেছেন চিহ্নিত কিছু বোর্ড সদস্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চেম্বার সচিবালয় কর্মকর্তা বলছেন, প্রতি বোর্ড সদস্যের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা নির্বাচিত করার জন্যে নেয়া হয় যা চেম্বার ফান্ডে কখনই আসেনা। একজন নির্ধারিত বোর্ড সদস্য যিনি নিজ একাউন্টে সেই টাকা জমা রাখেন যার কোন হিসাব থাকেনা, তার আঙ্গুলি হেলনে চলে নানা অপকর্ম। অপকর্ম ঢাঁকতে এবার নতুন একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ! “ডোনেশনফান্ড” নামে একটি একাউন্ট খুলে, সেখানে নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকা রাখা হচ্ছে, তবে চেম্বারের এমন আরো একাউন্ট থাকলেও অডিটে সব একাউন্ট শো করা হয় না।
এখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও নিয়োগ হয়না, আবার বোর্ডের বিনা অনুমতিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে প্রকাশ করে সচিবালয়ের কাছে চরম গোপনীয়তা রেখে নিজেরাই সচিব নিয়োগ দেন যা স্মরণাতীত কালের সবচেয়ে দূর্নীতি গ্রস্থ নিয়োগ পদ্ধতি। চেম্বার ২০২২ এ “কীর্তি মান পদক” নামে একটি পদক চালু করে, যা মূলত কতিপয় ব্যক্তির টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া মাত্র। উচ্চ পর্যায়ের পদক প্রদান কমিটির কথা বলা হলেও তার কোন অস্তিত্ব নেই।
জানতে চাইলে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। জেলা প্রশাসক অফিস নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। চাইলে আপনি অফিসে কাগজ পত্র দেখে যেতে পারেন। অনেক সাংবাদিক নির্বাচনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। আপনারাও আসেন দেখেন তারপর নিউজ করেন।
















