এখন ০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা

‘অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে জমি দাবি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কিছু অ্যাডভোকেট নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের স্বার্থে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, অনৈতিক বা বিধিবহির্ভূত কোনো কাজে সহযোগিতা না করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
দুলাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমি আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো অনৈতিক কাজে জড়াইনি। অথচ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মৌজায় ৭৩ শতাংশ ভিটি জমির নামজারি করে দেওয়ার জন্য জনৈক সাজিদের কাছে জমির অংশ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথমে ১০ শতাংশ জমি দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ৫ কাঠা বা সাড়ে ৭ শতাংশ জমি দেওয়ার শর্তে নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হন।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন দুলাল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এদিকে, এ অভিযোগের কথিত অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বা তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত নথি, অডিও-ভিডিও, লেনদেনের প্রমাণ বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
দুলাল চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে নামজারি-সংক্রান্ত নথি, আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট ভলিউম, সরকারি রেকর্ড, সাক্ষ্য এবং অভিযোগকারীর দাবির পক্ষে থাকা প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
অভিযোগকারী পক্ষের কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব হবে। তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা সমীচীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তার

বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা

‘অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে জমি দাবি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে দুলাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কিছু অ্যাডভোকেট নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের স্বার্থে কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, অনৈতিক বা বিধিবহির্ভূত কোনো কাজে সহযোগিতা না করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
দুলাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমি আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো অনৈতিক কাজে জড়াইনি। অথচ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মৌজায় ৭৩ শতাংশ ভিটি জমির নামজারি করে দেওয়ার জন্য জনৈক সাজিদের কাছে জমির অংশ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথমে ১০ শতাংশ জমি দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ৫ কাঠা বা সাড়ে ৭ শতাংশ জমি দেওয়ার শর্তে নামজারির কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হন।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন দুলাল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এদিকে, এ অভিযোগের কথিত অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বা তার সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত নথি, অডিও-ভিডিও, লেনদেনের প্রমাণ বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, দুলাল চন্দ্র দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
দুলাল চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে নামজারি-সংক্রান্ত নথি, আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট ভলিউম, সরকারি রেকর্ড, সাক্ষ্য এবং অভিযোগকারীর দাবির পক্ষে থাকা প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
অভিযোগকারী পক্ষের কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব হবে। তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা সমীচীন।