এখন ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও লালনসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন; মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তায় মুখর স্মরণোৎসব।

পঞ্চগড়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস স্মরণোৎসব, পরিবেশিত হলো লালনসংগীত

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়: বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লালন স্মরণোৎসব’। অনুষ্ঠানে লালনসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় মানবপ্রেম, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চিরন্তন বার্তা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, পঞ্চগড়ের ব্যবস্থাপনায় এ স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। পরে মিলনায়তনে শুরু হয় স্মরণোৎসবের মূল আয়োজন।

লালনসংগীতে মুখর স্মরণোৎসব
স্মরণোৎসবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীসহ বিভিন্ন বাউল শিল্পী লালনসংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের দর্শন ও জীবনবোধের প্রতিফলন ঘটে। মানবপ্রেম, আত্মোপলব্ধি, সাম্য, সম্প্রীতি এবং জাত-পাতের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বানসংবলিত এসব গান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
গানের সুর ও কথার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে লালন দর্শনের মানবিক আবেদন। সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণোৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। লালনসংগীতের মাধ্যমে তাঁর জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
স্মরণোৎসবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বাণিজ্য শাখা) মোহাম্মদ তাহমিদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার শাখা) সোহেল রানা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) আসিফ আলী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার, ডা. আবিদা হাফেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক জেবুন নাহার এবং জেলা জাসাসের সভাপতি ইউনুস শেখসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিশারী নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার।
লালন দর্শনে মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা
ফকির লালন সাঁই বাংলা লোকসংগীত ও বাউল দর্শনের এক অনন্য সাধক। তাঁর গান ও দর্শনে মানুষের পরিচয়কে জাত, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। মানবপ্রেম, আত্মজিজ্ঞাসা, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা তাঁর সৃষ্টিকর্মের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
লালন সাঁইয়ের গান শুধু সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের ভেতরের সত্যকে খুঁজে দেখা, অন্যের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজে বিদ্যমান বিভেদ দূর করার আহ্বান জানায়। তাঁর দর্শন আজও মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ স্মরণোৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁর জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও ভেদাভেদহীন সমাজ গঠনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া।
লালনসংগীত পরিবেশনা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের এ আয়োজন বাউল সংস্কৃতি এবং বাংলা লোকঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস স্মরণোৎসব, পরিবেশিত হলো লালনসংগীত

বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও লালনসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন; মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তায় মুখর স্মরণোৎসব।

পঞ্চগড়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস স্মরণোৎসব, পরিবেশিত হলো লালনসংগীত

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়: বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লালন স্মরণোৎসব’। অনুষ্ঠানে লালনসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় মানবপ্রেম, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধের চিরন্তন বার্তা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, পঞ্চগড়ের ব্যবস্থাপনায় এ স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। পরে মিলনায়তনে শুরু হয় স্মরণোৎসবের মূল আয়োজন।

লালনসংগীতে মুখর স্মরণোৎসব
স্মরণোৎসবে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীসহ বিভিন্ন বাউল শিল্পী লালনসংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের দর্শন ও জীবনবোধের প্রতিফলন ঘটে। মানবপ্রেম, আত্মোপলব্ধি, সাম্য, সম্প্রীতি এবং জাত-পাতের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বানসংবলিত এসব গান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
গানের সুর ও কথার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে লালন দর্শনের মানবিক আবেদন। সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণোৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। লালনসংগীতের মাধ্যমে তাঁর জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
স্মরণোৎসবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সীমা শারমিন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (বাণিজ্য শাখা) মোহাম্মদ তাহমিদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার শাখা) সোহেল রানা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) আসিফ আলী।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দার, ডা. আবিদা হাফেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক জেবুন নাহার এবং জেলা জাসাসের সভাপতি ইউনুস শেখসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দিশারী নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার।
লালন দর্শনে মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা
ফকির লালন সাঁই বাংলা লোকসংগীত ও বাউল দর্শনের এক অনন্য সাধক। তাঁর গান ও দর্শনে মানুষের পরিচয়কে জাত, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। মানবপ্রেম, আত্মজিজ্ঞাসা, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা তাঁর সৃষ্টিকর্মের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
লালন সাঁইয়ের গান শুধু সংগীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের ভেতরের সত্যকে খুঁজে দেখা, অন্যের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজে বিদ্যমান বিভেদ দূর করার আহ্বান জানায়। তাঁর দর্শন আজও মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ স্মরণোৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁর জীবনদর্শন ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও ভেদাভেদহীন সমাজ গঠনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া।
লালনসংগীত পরিবেশনা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ের এ আয়োজন বাউল সংস্কৃতি এবং বাংলা লোকঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।