এখন ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ

পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, জরিপ হবে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫ খানায়

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় জেলাজুড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫টি খানার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলা ও পঞ্চগড় পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জেলায় মোট ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫টি খানায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৪ জন মানুষ বসবাস করেন। এসব খানার তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলায় ১৬ জন সুপারভাইজার ও ৭৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি

প্রেস কনফারেন্সে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় খানার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ৭০ হাজার ৪০৪টি, আটোয়ারীতে ৩৮ হাজার ৮২৬টি, বোদায় ৭৪ হাজার ৫৮টি, দেবীগঞ্জে ৭০ হাজার ৮৯৬টি, তেঁতুলিয়ায় ৪০ হাজার ৬২টি এবং পঞ্চগড় পৌরসভায় ১৫ হাজার ৩৯টি খানা রয়েছে।

এসব এলাকায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথকভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ২ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী, আটোয়ারীতে ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, বোদায় ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, দেবীগঞ্জে ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, তেঁতুলিয়ায় ২ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং পঞ্চগড় পৌরসভায় ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন।

যেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরিপ হবে

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্ধারিত এলাকায় জরিপ পরিচালনা করা হবে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি, হাফিজাবাদ ও সাতমেরা; আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া, ধামোর ও বলরামপুর; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, বড়শশী ও সাকোয়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা, সোনাহার মল্লিকাদহ ও সুন্দরদীঘি; তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর, তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া পঞ্চগড় পৌরসভার ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন যারা

প্রেস কনফারেন্সে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সায়েম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র বর্মন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ওয়ালিউল হক, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লায়লা আঞ্জুমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তেঁতুলিয়ায় পাইলট কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৪৭৬ জন

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। ওই এলাকায় ৭৩১টি খানা জরিপ করে ৪৭৬ জন উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন।

জেলাজুড়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে খানাভিত্তিক তথ্য যাচাই ও সংকলন করা হবে। এর মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উদ্দেশ্য থেকে ধারণা করা যায়। তবে চূড়ান্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রেস কনফারেন্সে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, জরিপ হবে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫ খানায়

পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ

পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, জরিপ হবে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫ খানায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় জেলাজুড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫টি খানার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলা ও পঞ্চগড় পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জেলায় মোট ৩ লাখ ৯ হাজার ২৮৫টি খানায় ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৪ জন মানুষ বসবাস করেন। এসব খানার তথ্য সংগ্রহের জন্য জেলায় ১৬ জন সুপারভাইজার ও ৭৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি

প্রেস কনফারেন্সে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় খানার সংখ্যা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ৭০ হাজার ৪০৪টি, আটোয়ারীতে ৩৮ হাজার ৮২৬টি, বোদায় ৭৪ হাজার ৫৮টি, দেবীগঞ্জে ৭০ হাজার ৮৯৬টি, তেঁতুলিয়ায় ৪০ হাজার ৬২টি এবং পঞ্চগড় পৌরসভায় ১৫ হাজার ৩৯টি খানা রয়েছে।

এসব এলাকায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথকভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ২ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী, আটোয়ারীতে ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, বোদায় ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, দেবীগঞ্জে ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী, তেঁতুলিয়ায় ২ জন সুপারভাইজার ও ১৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং পঞ্চগড় পৌরসভায় ৩ জন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন।

যেসব এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরিপ হবে

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্ধারিত এলাকায় জরিপ পরিচালনা করা হবে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি, হাফিজাবাদ ও সাতমেরা; আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া, ধামোর ও বলরামপুর; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, বড়শশী ও সাকোয়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা, সোনাহার মল্লিকাদহ ও সুন্দরদীঘি; তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর, তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া পঞ্চগড় পৌরসভার ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন যারা

প্রেস কনফারেন্সে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সায়েম, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র বর্মন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ওয়ালিউল হক, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লায়লা আঞ্জুমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তেঁতুলিয়ায় পাইলট কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৪৭৬ জন

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। ওই এলাকায় ৭৩১টি খানা জরিপ করে ৪৭৬ জন উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত উপকারভোগীরা মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন।

জেলাজুড়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে খানাভিত্তিক তথ্য যাচাই ও সংকলন করা হবে। এর মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উদ্দেশ্য থেকে ধারণা করা যায়। তবে চূড়ান্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিস্তারিত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রেস কনফারেন্সে আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।