এখন ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, উত্তেজনা ঠেকাতে চৌমাথায় জারি হলো ১৪৪ ধারা।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের জেরে চৌমাথায় ১৪৪ ধারা জারি, উত্তেজনা অব্যাহত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর উদ্ভূত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের চৌমাথা এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে একই স্থানে উভয় দলের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা
পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা

আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় উপজেলা বিএনপি। একই সময় একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উপজেলা জামায়াত। উভয় দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এর ফলে ওই এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ তুলেছে।
বিএনপির দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে একাধিক নেতাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর গভীর রাতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে উভয় পক্ষের এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের পর থেকে পুরো পলাশবাড়ী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল জোরদার করেছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, “জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের পর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, উত্তেজনা ঠেকাতে চৌমাথায় জারি হলো ১৪৪ ধারা।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের জেরে চৌমাথায় ১৪৪ ধারা জারি, উত্তেজনা অব্যাহত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর উদ্ভূত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের চৌমাথা এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে একই স্থানে উভয় দলের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা
পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা

আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় উপজেলা বিএনপি। একই সময় একই স্থানে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উপজেলা জামায়াত। উভয় দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এর ফলে ওই এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ তুলেছে।
বিএনপির দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে একাধিক নেতাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর গভীর রাতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে উভয় পক্ষের এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের পর থেকে পুরো পলাশবাড়ী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল জোরদার করেছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, “জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের পর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।