
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে উজান থেকে নেমে আসা বর্ষার পানির ঢলে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। ইতিমধ্যে ৩০ বিঘা জমি হারিয়ে চরম সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অভিযোগ রয়েছে, ফসলি জমি রক্ষায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লাঠুয়াপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিলীন হয়ে যাবে শত শত জমি।
জানা গেছে, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় গত পাঁচ বছর ধরে লাঠুয়াপাড়া এলাকার শতাধিক কৃষকের কৃষিজমি ভাঙনের শিকার হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল ঢলের কারণে তীব্র স্রোত আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় একের পর এক আবাদি জমি পরিণত হচ্ছে জলাভূমিতে। অতিরিক্ত পানির চাপে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০ বিঘা আবাদি জমি পাশের নালা ও খালে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের কারণে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে। ভাঙন রোধে একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
ভুক্তভোগী মহিমদ্দীন, মফিজুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের আবাদের জমি ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটা দেখার কেউ নেই। ইতিমধ্যে অনেক জমি হারিয়েছি। বাকি জমি নিয়ে এখন আমরা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমের এই ভাঙ্গনের কারণে আশপাশের জমিতে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না জরুরী হয়ে পড়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন বলেন, পানির চাপে জমি ভেঙে নালায় পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লাঠুয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৩০০ কৃষকের অন্তত ২০০ বিঘা আবাদি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।















