এখন ০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ মামলায় জামিন বহাল থাকায় মুক্তির পথ সুগম; ভবিষ্যতে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কারামুক্ত সাবেক মেয়র আইভী, রাতেই নারায়ণগঞ্জের পথে

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে জামিন লাভের পর অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
আইভীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিকেলে জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাত ১০টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
জানা গেছে, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির সকল আইনি বাধা দূর হয়। এর আগে গত ১০ মে ১০টি মামলায় হাইকোর্ট প্রদত্ত জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। পরে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৭ মে আপিল বিভাগ সেসব মামলাতেও জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, আপিল বিভাগের আদেশগুলো নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর একই দিনে জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের নথি কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির কারণে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। অবশেষে বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছালে তার মুক্তি নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, “সব মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ায় আইভী আজ মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাসভবনে গেলে বিপুলসংখ্যক সমর্থক সেখানে জড়ো হন। প্রায় ছয় ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর ৯ মে ভোরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা, দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একের পর এক মামলায় জামিন লাভের পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন।
গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট ডা. আইভীকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়েও রুল জারি করেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার মুক্তিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

১২ মামলায় জামিন বহাল থাকায় মুক্তির পথ সুগম; ভবিষ্যতে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে কারামুক্ত সাবেক মেয়র আইভী, রাতেই নারায়ণগঞ্জের পথে

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে জামিন লাভের পর অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
আইভীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিকেলে জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাত ১০টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
জানা গেছে, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার মুক্তির সকল আইনি বাধা দূর হয়। এর আগে গত ১০ মে ১০টি মামলায় হাইকোর্ট প্রদত্ত জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। পরে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ১৭ মে আপিল বিভাগ সেসব মামলাতেও জামিন বহাল রাখার আদেশ দেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, আপিল বিভাগের আদেশগুলো নারায়ণগঞ্জের বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর একই দিনে জামিন কার্যকরের আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমোদনের পর জামিনের নথি কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির কারণে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। অবশেষে বুধবার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছালে তার মুক্তি নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, “সব মামলায় আদালতের দেওয়া জামিন কার্যকর হওয়ায় আইভী আজ মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাসভবনে গেলে বিপুলসংখ্যক সমর্থক সেখানে জড়ো হন। প্রায় ছয় ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর ৯ মে ভোরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা, দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একের পর এক মামলায় জামিন লাভের পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় তার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন।
গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট ডা. আইভীকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়েও রুল জারি করেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এবং সাবেক পৌর চেয়ারম্যান। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার মুক্তিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।