এখন ০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আইন নিয়ে দ্বিধা; বিশেষ কমিটির যাচাইয়ে উঠেছে ত্রুটি-বিচ্যুতি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশে অনিশ্চয়তা, বাতিলের মুখে গণভোট সহ অন্তত ২০টি

ঢাকা, সোমবার: চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি এখন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই শেষে এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে। ইতোমধ্যে কমিটি অধিকাংশ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে এবং যেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো বাতিলের তালিকায় রাখার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।
বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫সহ অর্থ ও রাজস্ব খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক আইন।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সাংবিধানিক বৈধতাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—যেগুলো সরাসরি বিল আকারে পাস করা যাবে, যেগুলো সংশোধন করে পাস করতে হবে এবং যেগুলোতে ঐকমত্য না হওয়ায় বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, প্রায় ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে সংসদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ থাকবে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, যেসব অধ্যাদেশে কমিটি একমত হতে পারবে না, সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা যেতে পারে।
কমিটির সদস্যদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দ্রুততার সঙ্গে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্পর্শকাতর অধ্যাদেশগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনী অধ্যাদেশে নতুন কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে এয়ার অপারেটরদের ভাড়া নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য স্থানীয় কার্যালয় বা জিএসএ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫-এ অঙ্গদানের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজ হবে। তবে বিরোধিতার কারণে এটিও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাতিলের সুপারিশ পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও সরকার চাইলে সেগুলো সংশোধন করে নতুনভাবে সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সামনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আইন নিয়ে দ্বিধা; বিশেষ কমিটির যাচাইয়ে উঠেছে ত্রুটি-বিচ্যুতি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশে অনিশ্চয়তা, বাতিলের মুখে গণভোট সহ অন্তত ২০টি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৫:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা, সোমবার: চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি এখন বাতিলের ঝুঁকিতে পড়েছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই শেষে এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে। ইতোমধ্যে কমিটি অধিকাংশ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে এবং যেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো বাতিলের তালিকায় রাখার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।
বাতিলের ঝুঁকিতে থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫সহ অর্থ ও রাজস্ব খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক আইন।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সাংবিধানিক বৈধতাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—যেগুলো সরাসরি বিল আকারে পাস করা যাবে, যেগুলো সংশোধন করে পাস করতে হবে এবং যেগুলোতে ঐকমত্য না হওয়ায় বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে।
সূত্র জানায়, প্রায় ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। তবে সংসদের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সুযোগ থাকবে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, যেসব অধ্যাদেশে কমিটি একমত হতে পারবে না, সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা যেতে পারে।
কমিটির সদস্যদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দ্রুততার সঙ্গে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্পর্শকাতর অধ্যাদেশগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনী অধ্যাদেশে নতুন কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে এয়ার অপারেটরদের ভাড়া নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য স্থানীয় কার্যালয় বা জিএসএ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫-এ অঙ্গদানের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে দেশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজ হবে। তবে বিরোধিতার কারণে এটিও বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাতিলের সুপারিশ পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও সরকার চাইলে সেগুলো সংশোধন করে নতুনভাবে সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সামনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।