এখন ০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়—ব্র্যাক ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে মন্তব্য সিপিডি চেয়ারম্যানের

৩৮ সংস্কার প্রস্তাবে এক প্রশ্নের গণভোট ‘গুরুত্বহীন’: সংস্কার নিয়ে মিথ্যা বয়ানের অভিযোগ রেহমান সোবহানের

  • বিশেষ সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭০৮ পড়া হয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতাঃ সরকার প্রস্তাবিত ৩৮টি জটিল রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের ওপর একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে গণভোট আয়োজনকে গুরুত্বহীন ও লোক দেখানো উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে দেশে একটি মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা জানেনই না—জুলাই জাতীয় সনদে আসলে কী কী সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BIGD) আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসাইন।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন,
“সংস্কার কোনো এককালীন ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কারের প্রস্তাব লিখে ফেললেই তা বাস্তবায়ন হয়ে যায় না।”
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গণভোটের মাধ্যমে অস্পষ্টভাবে জনগণের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন,
“আমি প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর কাউকেই বলতে শুনিনি যে—এই ৩৮টি সংস্কার আমাদের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা দরকার।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়,
“১৮ মাসের একটি অন্তর্বর্তী সরকার সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যকর করতে পারে না।”
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“আমরা দেখছি ব্যাংক কর্মচারী ও কিছু অসহায় এনজিও কর্মীকে মাঠে নামানো হচ্ছে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ বলতে রাজি করাতে। অথচ এটি একটি সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন প্রস্তাব।”
সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন,
“আমার ধারণা, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মাহফুজ আলম ও তার সহকর্মীদের আশ্বস্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেন পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে না যায়।”
তিনি বলেন,
“যতক্ষণ না পাঁচ বছরের জন্য একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সংস্কার বাস্তবায়নের দায় নেয়, ততক্ষণ লিখিত সংস্কার প্রস্তাবের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।”
শেষে তিনি মন্তব্য করেন,
“আমরা একটি চক্রের মধ্যে আটকে গেছি। এটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা আমি জানি না।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়—ব্র্যাক ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে মন্তব্য সিপিডি চেয়ারম্যানের

৩৮ সংস্কার প্রস্তাবে এক প্রশ্নের গণভোট ‘গুরুত্বহীন’: সংস্কার নিয়ে মিথ্যা বয়ানের অভিযোগ রেহমান সোবহানের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বিশেষ সংবাদদাতাঃ সরকার প্রস্তাবিত ৩৮টি জটিল রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের ওপর একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে গণভোট আয়োজনকে গুরুত্বহীন ও লোক দেখানো উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে দেশে একটি মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকরা জানেনই না—জুলাই জাতীয় সনদে আসলে কী কী সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BIGD) আয়োজিত এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসাইন।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন,
“সংস্কার কোনো এককালীন ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কারের প্রস্তাব লিখে ফেললেই তা বাস্তবায়ন হয়ে যায় না।”
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে গণভোটের মাধ্যমে অস্পষ্টভাবে জনগণের সম্মতি আদায়ের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন,
“আমি প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর কাউকেই বলতে শুনিনি যে—এই ৩৮টি সংস্কার আমাদের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা দরকার।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়,
“১৮ মাসের একটি অন্তর্বর্তী সরকার সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যকর করতে পারে না।”
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“আমরা দেখছি ব্যাংক কর্মচারী ও কিছু অসহায় এনজিও কর্মীকে মাঠে নামানো হচ্ছে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ বলতে রাজি করাতে। অথচ এটি একটি সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন প্রস্তাব।”
সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন,
“আমার ধারণা, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মাহফুজ আলম ও তার সহকর্মীদের আশ্বস্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেন পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে না যায়।”
তিনি বলেন,
“যতক্ষণ না পাঁচ বছরের জন্য একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সংস্কার বাস্তবায়নের দায় নেয়, ততক্ষণ লিখিত সংস্কার প্রস্তাবের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।”
শেষে তিনি মন্তব্য করেন,
“আমরা একটি চক্রের মধ্যে আটকে গেছি। এটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা আমি জানি না।”