এখন ০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নির্বাচন কমিশনের গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব ও আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দাখিল করেন। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই মাসে জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গত শনিবার জানান, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট করা হলো।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করানো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে বলে দাবি রিটকারীদের।

রিটে প্রার্থনায় বলা হয়েছে—
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে ইউএনওদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুলের অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসি সচিব পদটি নির্বাহী বিভাগ থেকে আনা বন্ধ করে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজস্ব পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ ও ‘ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও বাস্তবে এটি নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যায়। ফলে সরকারের প্রতিনিধিরা সরকারের ইচ্ছেমতো নির্বাচন পরিচালনা করেন, যা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছে, যা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের মাধ্যমে নির্বাচন হলে আবারও প্রভাবিত নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে এবং ইসি সচিবের নিজস্ব পদোন্নতি কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে রিটটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

নির্বাচন কমিশনের গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ কংগ্রেস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলটির মহাসচিব ও আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দাখিল করেন। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই মাসে জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গত শনিবার জানান, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট করা হলো।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করানো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে বলে দাবি রিটকারীদের।

রিটে প্রার্থনায় বলা হয়েছে—
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পরিবর্তে ইউএনওদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুলের অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসি সচিব পদটি নির্বাহী বিভাগ থেকে আনা বন্ধ করে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজস্ব পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ ও ‘ইলেকটোরাল সার্ভিস কমিশন’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও বাস্তবে এটি নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যায়। ফলে সরকারের প্রতিনিধিরা সরকারের ইচ্ছেমতো নির্বাচন পরিচালনা করেন, যা নিয়ে নানামুখী বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছে, যা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের মাধ্যমে নির্বাচন হলে আবারও প্রভাবিত নির্বাচনের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে এবং ইসি সচিবের নিজস্ব পদোন্নতি কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে রিটটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।