এখন ০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মে জর্জরিত প্রশাসন—ক্রাইম লেটারের প্রতিবেদন প্রকাশের ৯ দিন পর তড়িঘড়ি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম—নিউজ প্রকাশের ৯ দিন পর তড়িঘড়ি পুরস্কার বিতরণ

বিশেষ প্রতিনিধি: চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়া, অভিভাবক-শিক্ষকের ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অস্থিরতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এর মধ্যেই “ক্রাইম লেটার” অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশের ৯ দিন পর হঠাৎ করেই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ে এখন স্থানীয় মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা শিরিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবযানী কর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল নারায়ণগঞ্জ,  আসাদুজ্জামান নূর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল নারায়ণগঞ্জ, লিয়াকত আলী লেকু, সাবেক অভিভাবক সদস্য, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, সাবেক অভিভাবক সদস্য, মোঃ মনির হোসেন তারা, বর্তমান অভিভাবক সদস্য।
সভাপতিত্ব করেন- মনিশংকর হালদার,  প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ প্রধান অতিথির সাথে প্রধান শিক্ষকের কথা কাটাকাটির কারণে প্রাধান অতিথি অনুষ্ঠান শুরু করার আগেই মঞ্চ হতে নেমে বিদ্যালয় ত্যাগ করে চলে যান।

অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের জন্য আকর্ষনীয় মিউজিক্যাল পিলো খেলা।

জানা গেছে, ২০২৪ এবং ২০২৫—পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে একবারও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন নাকরায় প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবার পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের এবং বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার বিতরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও স্কুল প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তা বাস্তবায়ন করেনি।

অভিভাবকরা জানান, “প্রেসার পড়লে পুরস্কার কেনা হয়, তারিখ দেওয়া হয়, নোটিশও টানানো হয়—শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানই হতনা, অবশেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে এই জন্য “ক্রাইম লেটার” কে ধন্যবাদ।

অভিভাবকদের অভিযোগ:- বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপ্রাণিত নয়। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে শিক্ষকরা বিব্রত অবস্থায় পড়েন।

একজন অভিভাবক বলেন—“আগে এই স্কুল এলাকায় সুনামের ছিল। এখন স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থাপনায় সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, “দুই বছরে অনুষ্ঠান করেনি, কিন্তু নিউজ প্রকাশ হতেই দ্রুত অনুষ্ঠান! এটা পরিষ্কার—সমালোচনা ঠেকাতেই সাজানো আয়োজন।”

অভিভাবকরা মনে করেন— বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণেই হচ্ছে ; প্রশাসনিক অস্থিরতা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া, শিক্ষা পরিবেশ ভেঙে যাওয়া।

এসব সমাধানে দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করা জরুরি

একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন—

“এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের সুনাম ফিরে পাওয়া কঠিন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এর সমাধান নেই।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মে জর্জরিত প্রশাসন—ক্রাইম লেটারের প্রতিবেদন প্রকাশের ৯ দিন পর তড়িঘড়ি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান

চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম—নিউজ প্রকাশের ৯ দিন পর তড়িঘড়ি পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি: চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়া, অভিভাবক-শিক্ষকের ক্ষোভ ও প্রশাসনিক অস্থিরতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। এর মধ্যেই “ক্রাইম লেটার” অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশের ৯ দিন পর হঠাৎ করেই পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ—যা নিয়ে এখন স্থানীয় মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা শিরিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবযানী কর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল নারায়ণগঞ্জ,  আসাদুজ্জামান নূর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল নারায়ণগঞ্জ, লিয়াকত আলী লেকু, সাবেক অভিভাবক সদস্য, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, সাবেক অভিভাবক সদস্য, মোঃ মনির হোসেন তারা, বর্তমান অভিভাবক সদস্য।
সভাপতিত্ব করেন- মনিশংকর হালদার,  প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়।

বিশেষ ভাবে উল্লেখ প্রধান অতিথির সাথে প্রধান শিক্ষকের কথা কাটাকাটির কারণে প্রাধান অতিথি অনুষ্ঠান শুরু করার আগেই মঞ্চ হতে নেমে বিদ্যালয় ত্যাগ করে চলে যান।

অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের জন্য আকর্ষনীয় মিউজিক্যাল পিলো খেলা।

জানা গেছে, ২০২৪ এবং ২০২৫—পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে একবারও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন নাকরায় প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবার পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের এবং বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের উৎসাহিত করতে পুরস্কার বিতরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও স্কুল প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তা বাস্তবায়ন করেনি।

অভিভাবকরা জানান, “প্রেসার পড়লে পুরস্কার কেনা হয়, তারিখ দেওয়া হয়, নোটিশও টানানো হয়—শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানই হতনা, অবশেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে এই জন্য “ক্রাইম লেটার” কে ধন্যবাদ।

অভিভাবকদের অভিযোগ:- বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপ্রাণিত নয়। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে শিক্ষকরা বিব্রত অবস্থায় পড়েন।

একজন অভিভাবক বলেন—“আগে এই স্কুল এলাকায় সুনামের ছিল। এখন স্বেচ্ছাচারী ব্যবস্থাপনায় সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, “দুই বছরে অনুষ্ঠান করেনি, কিন্তু নিউজ প্রকাশ হতেই দ্রুত অনুষ্ঠান! এটা পরিষ্কার—সমালোচনা ঠেকাতেই সাজানো আয়োজন।”

অভিভাবকরা মনে করেন— বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণেই হচ্ছে ; প্রশাসনিক অস্থিরতা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া, শিক্ষা পরিবেশ ভেঙে যাওয়া।

এসব সমাধানে দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করা জরুরি

একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন—

“এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের সুনাম ফিরে পাওয়া কঠিন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এর সমাধান নেই।”