এখন ০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মণি শংকর হালদারের অনিয়মে কমছে ছাত্রছাত্রী, দুই বছর ধরে হয়নি পুরস্কার বিতরণ

চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙে পড়ছে শিক্ষার মান

বিশেষ প্রতিনিধিঃ চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে। তার একক সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদার ২০২৪ ও ২০২৫ দুইটি শিক্ষাবর্ষে কোনো পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেননি। বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার কথা থাকলেও, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অভিভাবক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের চাপের মুখে পুরস্কার কেনা হলেও, কয়েকবার তারিখ নির্ধারণ করে বিদ্যালয়ে নোটিশ জারি করেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে মনোযোগ না দিয়ে বরং ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী এনে তাদের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের ফলাফল ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিদ্যালয়ে এখন পড়াশোনার চেয়ে অন্য বিষয়েই বেশি সময় ব্যয় হয়। প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে সবাই চুপ থাকে। কেউ কিছু বললে তার প্রতি বিরূপ আচরণ করা হয়।”

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ আগের মতো নেই। শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে, শিক্ষকরা হতাশ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তালবাহানা করে কথা বলেন। কোন সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি, কোন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোন সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিকে আঙ্গুল তোলেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি—দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর যেন ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

মণি শংকর হালদারের অনিয়মে কমছে ছাত্রছাত্রী, দুই বছর ধরে হয়নি পুরস্কার বিতরণ

চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙে পড়ছে শিক্ষার মান

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধিঃ চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের বিরুদ্ধে। তার একক সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদার ২০২৪ ও ২০২৫ দুইটি শিক্ষাবর্ষে কোনো পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেননি। বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার কথা থাকলেও, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অভিভাবক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের চাপের মুখে পুরস্কার কেনা হলেও, কয়েকবার তারিখ নির্ধারণ করে বিদ্যালয়ে নোটিশ জারি করেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে মনোযোগ না দিয়ে বরং ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী এনে তাদের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের ফলাফল ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিদ্যালয়ে এখন পড়াশোনার চেয়ে অন্য বিষয়েই বেশি সময় ব্যয় হয়। প্রধান শিক্ষকের একক সিদ্ধান্তে সবাই চুপ থাকে। কেউ কিছু বললে তার প্রতি বিরূপ আচরণ করা হয়।”

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ আগের মতো নেই। শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে, শিক্ষকরা হতাশ। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মণি শংকর হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তালবাহানা করে কথা বলেন। কোন সময় রাজনৈতিক ব্যক্তি, কোন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কোন সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিকে আঙ্গুল তোলেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি—দ্রুত শিক্ষা অধিদপ্তর যেন ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করা যায়।