
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শাহবাগ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শত শত শিক্ষক ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল শাহবাগে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা। কিন্তু দোয়েল চত্বর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।

পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষকরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

চোখে-মুখে পানি ও লবণাক্ত তরল পড়ে অনেক শিক্ষক আহত হন, কেউ কেউ মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আহতদের মধ্যে নারী শিক্ষক ও সংবাদকর্মীরাও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। আন্দোলনকারীদের দাবি—
১️⃣ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত করা,
২️⃣ প্রধান শিক্ষকদের নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং
৩️⃣ শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পদ মর্যাদা পুনর্নির্ধারণ করা।
‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ’-এর সভাপতি মো. রুহুল আমিন বলেন,
“আমরা কোনো রাজনৈতিক দাবিতে মাঠে নামিনি, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার চাইতে এসেছি। সরকার যদি দ্রুত আমাদের দাবি না মেনে নেয়, আমরা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেব।”
অন্যদিকে, পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
“তারা অনুমতি ছাড়াই শাহবাগ অভিমুখে মিছিল বের করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ন্যূনতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও প্রেসক্লাব এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
















