নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কর্মসূচি। একই সঙ্গে চলমান আছে ভিজিএফ (VGF), ভিজিডি (VGD), ওএমএস (Open Market Sale) এবং টিসিবি’র ভর্তুকিযুক্ত পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম।
এসব কর্মসূচি দেশের কোটি মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল অনেক সময় ভোগান্তিতে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব কর্মসূচি একীভূতভাবে একটি প্যাকেজ আকারে বাস্তবায়ন করলে দুর্নীতি কমবে, সুবিধাভোগী বাছাই হবে সহজ এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়বে না।
বর্তমান কর্মসূচিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ
১৫ টাকা কেজি দরে চাল কর্মসূচি: বছরে পাঁচ মাস দরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়।
ভিজিএফ (VGF): দুর্যোগ, উৎসব ও জরুরি পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে চাল বিতরণ।
ভিজিডি (VGD): দরিদ্র নারীদের মাসিক চাল প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
ওএমএস (OMS): শহর ও গ্রামে খোলা বাজারে কম দামে চাল ও আটা বিক্রি।
টিসিবি: ভর্তুকি মূল্যে তেল, চিনি, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ।
সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা
১. একই পরিবার কখনো একাধিক কর্মসূচির সুবিধা পায়, আবার অনেক দরিদ্র পরিবার একেবারেই বঞ্চিত থাকে।
২. সুবিধাভোগী তালিকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
৩. পৃথকভাবে পরিচালিত কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং সমন্বয়ের অভাবে খাদ্যশস্য অপচয় হয়।
একীভূত প্যাকেজ কেন প্রয়োজন?
বিশ্লেষকদের মতে, সব কর্মসূচি সমন্বিতভাবে একটি খাদ্য সুরক্ষা প্যাকেজ হিসেবে চালু করলে—
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সহজ হবে।
প্রকৃত দরিদ্ররা সমানভাবে সুবিধা পাবেন।
সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে।
ভিজিএফ, ভিজিডি, ওএমএস ও টিসিবি কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা যাবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল কার্ড সিস্টেম চালু করে প্যাকেজ আকারে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে একজন দরিদ্র পরিবার নির্দিষ্ট একটি কার্ড দিয়ে চাল, আটা, তেল, চিনি বা অন্যান্য খাদ্যপণ্য একসাথে ভর্তুকি মূল্যে নিতে পারবে। এতে যেমন সুবিধাভোগীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে, তেমনি সরকারি নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হলে এখনই সময় বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির পরিবর্তে সমন্বিত প্যাকেজ চালুর। বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি দরিদ্রের জন্য টুকরো টুকরো সহায়তা, কিন্তু একীভূত প্যাকেজই হবে প্রকৃত খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।”
👉 তাই দেশের কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিগুলোকে একীভূত প্যাকেজ আকারে বাস্তবায়ন করাই সময়ের দাবি।
















