এখন ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপনীবিতান দখলকারীসহ বিদ্যালয় ভাঙচুরের মামলার আসামি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও চেয়ারম্যান শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিপনীবিতানের ভাড়াসহ তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। রোববার বেলা ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শফিকুল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী।
রোববার বেলা ১২টার দিকে শহরের কুমারশীল মোড় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে তাঁরা সমাবেশ করেন। সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের
মাহমুদ শ্রাবন একটি স্মারকলিপি পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, শফিকুল আলম এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি ও তাঁর ভাই শাহ আলম বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বি. বাড়িয়া বিপনীবিতানের ভাড়া ও তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) স্থানীয় আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বিপনীবিতানের দ্বিতীয় তলা নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে এই ঠিকাদারকে সরিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাফিকুল আলম নিজের ছোট ভাই শাহ আলমকে অবৈধভাবে ঠিকাদার নিয়োগ দেন। তখন তিনি ইচ্ছেমতো বিপনীবিতান নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধি করে বিদ্যালয়ের তহবিলে থেকে প্রায় ৫০লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন। ব্যাপক কারসাজির মাধ্যমে প্রতি বর্গফুট ২ দশমিক ৩২ টাকা ভাড়া ধার্য্য করে ১৭ হাজার ৩৭২বর্গফুটের মাসিক ভাড়া ৪০ হাজার ৩০৪টাকা নির্ধারণ করেন। ছোট ভাই ঠিকাদার শাহ আলমের সঙ্গে অবৈধ ভাড়া চুকিত্ সম্পাদন করে বিদ্যালয়ের প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন শফিকুল। অবৈধ ঠিকাদারী ও নামমাত্র মূল্যে বিপনীবিতানের ইজারা গ্রহন করেও তারা তৃপ্ত হননি। অবৈধ ক্ষমতার দাপটে তারা ঠিকাদারি চুক্তির জামানত না দিয়েই নির্মাণকাজের বিল গ্রহন করেন এবং বিদ্যালয়ের তহবিলে বন্দোবস্তের জমানত জমা করেননি। ২০১০ সাল থেকে অদ্যবদি বিদ্যালয়ের বিপনীবিতানের ভাড়া পরিশোধ না করে অবৈধ ও ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ করেন শফিকুল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলে শফিকুল আলম নিজের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। আদালত বয়েক ভাড়া বাবদ ৬০লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও শাহ আলম এখনো তা পরিশোধ করেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিদ্যালয়ের তহবিল অডিটে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রায় দুই কোটি টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে শফিকুল আলম গংদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ছাত্র সংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানীর কারণে বিদ্যালয়ের পাওনা টাকা আদায় বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। তারা বলেন, বিপনীবিতানের ভাড়া ও জামানত পরিশোধ না করে প্রায় ১০বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রাখবে তা হতে পারে না। জেলার প্রশাসকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নিকট এঘটনায় একটি স্মারকলিপি জমা দেয়া হবে।
সমাবেশে শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজ অনিক, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৫৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

মইনুল ভূইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি -ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপনীবিতান দখলকারীসহ বিদ্যালয় ভাঙচুরের মামলার আসামি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও চেয়ারম্যান শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বিপনীবিতানের ভাড়াসহ তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। রোববার বেলা ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শফিকুল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি সম্প্রতি জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যানপ্রার্থী।
রোববার বেলা ১২টার দিকে শহরের কুমারশীল মোড় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে তাঁরা সমাবেশ করেন। সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের
মাহমুদ শ্রাবন একটি স্মারকলিপি পাঠ করেন। এসময় তিনি বলেন, শফিকুল আলম এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি ও তাঁর ভাই শাহ আলম বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বি. বাড়িয়া বিপনীবিতানের ভাড়া ও তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) স্থানীয় আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বিপনীবিতানের দ্বিতীয় তলা নির্মাণের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে এই ঠিকাদারকে সরিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাফিকুল আলম নিজের ছোট ভাই শাহ আলমকে অবৈধভাবে ঠিকাদার নিয়োগ দেন। তখন তিনি ইচ্ছেমতো বিপনীবিতান নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধি করে বিদ্যালয়ের তহবিলে থেকে প্রায় ৫০লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন। ব্যাপক কারসাজির মাধ্যমে প্রতি বর্গফুট ২ দশমিক ৩২ টাকা ভাড়া ধার্য্য করে ১৭ হাজার ৩৭২বর্গফুটের মাসিক ভাড়া ৪০ হাজার ৩০৪টাকা নির্ধারণ করেন। ছোট ভাই ঠিকাদার শাহ আলমের সঙ্গে অবৈধ ভাড়া চুকিত্ সম্পাদন করে বিদ্যালয়ের প্রায় দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন শফিকুল। অবৈধ ঠিকাদারী ও নামমাত্র মূল্যে বিপনীবিতানের ইজারা গ্রহন করেও তারা তৃপ্ত হননি। অবৈধ ক্ষমতার দাপটে তারা ঠিকাদারি চুক্তির জামানত না দিয়েই নির্মাণকাজের বিল গ্রহন করেন এবং বিদ্যালয়ের তহবিলে বন্দোবস্তের জমানত জমা করেননি। ২০১০ সাল থেকে অদ্যবদি বিদ্যালয়ের বিপনীবিতানের ভাড়া পরিশোধ না করে অবৈধ ও ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ করেন শফিকুল।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করলে শফিকুল আলম নিজের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। আদালত বয়েক ভাড়া বাবদ ৬০লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও শাহ আলম এখনো তা পরিশোধ করেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিদ্যালয়ের তহবিল অডিটে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রায় দুই কোটি টাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে প্রমাণিত হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে শফিকুল আলম গংদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিলের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ছাত্র সংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানীর কারণে বিদ্যালয়ের পাওনা টাকা আদায় বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। তারা বলেন, বিপনীবিতানের ভাড়া ও জামানত পরিশোধ না করে প্রায় ১০বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রাখবে তা হতে পারে না। জেলার প্রশাসকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের নিকট এঘটনায় একটি স্মারকলিপি জমা দেয়া হবে।
সমাবেশে শফিকুল আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজ অনিক, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন।