এখন ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসাদের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সমালোচনার ঝড়

আলিফ হোসেন, তানোর-ঃ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ গত ১৬ জুলাই শনিবার রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর
সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এদিকে কথিত সংবাদ সম্মেলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্রক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড়, দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।আওয়ামী লীগের নেতা দাবী করে আওয়ামী লীগ দলীয় কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন এবং মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া যায় কি না সেটি একটি বড় প্রশ্ন, কারণ দলীয় সাংসদ কোনো অনিয়ম করলে দলের নীতিনির্ধারক মহলে তার বিরুদ্ধে নালিশ করা যায়, কিন্ত্ত সুনিদ্রিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ব্যতিত সাংসদের ভাবমুর্তিক্ষুন্ন হয় এমন বক্তব্য দেয়া যায় না। কারণ সাংসদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দল, নেতা ও নেতৃত্বের ভাবমুর্তি, যদি সেটা হয় তাহলে আসাদ কার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলেন এই প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ সেলিম রেজা নিজে মারধরের শিকার হয়েছেন এবং সেদিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে কথোপোকথন করেছে এমনটি দাবি করে সেটির অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনান। এখন প্রশ্ন হলো সেই অধ্যক্ষ নিজেই যখন এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। তখন আসাদ অভিযোগ সত্য প্রমাণে অতিউৎসাহী হয়ে কেনো এমন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আর ডিজিটাল যুগে যেকারো কন্ঠ নকল করে অডিও কথোপকথন করা যায়, যে কারণে আদালতে অডিও কথোপকথন গ্রহণযোগ্য নয়।এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে
এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়ম-অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে প্রথম অভিযোগ, অর্থআত্নসাৎ, কিন্ত্ত এটা ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কারণ কিভাবে কার কাছে থেকে কত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার কোনো ব্যাক্ষা নাই, অথচ সুনির্দিষ্ট ও লিখিত তথ্য প্রমাণ ব্যতিত একজন সাংসদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা এক ধরনের অপরাধ। দ্বিতীয় অভিযোগ খাসজমি ইজারায় দুর্নীতি, এটা হাস্যকর খাস জমি ইজারা এমপিরা দেয় না, আর কোথায় কার কাছে এমপি খাস জমি ইজারা দিয়ে দুর্নীতি করলেন তার সুনিদ্রিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হোক সেটা কি তার কাছে আছে ? তৃতীয় অভিযোগ, স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি এবং জামায়াত-বিএনপির ব্যক্তিদের নিয়োগ এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। কারণ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির এখানে এমপির নাম আসছে কেনো, কেউ কি বলতে পারবেন চাকরি দিয়ে এমপি কারো কাছে থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিয়েছেন। অথচ এমপি ফারুক বিনা পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-পুলিশের এসআই থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলের দপ্তরি হিসেবে অসংখ্য মানুষকে চাকরি দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম ধানতৈড় গ্রামের আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিল্লী গ্রামের আদিবাসি পুর্নিমা পুলিশ সদস্য, গোল্লাপাড়া গ্রামের বোরজাহান হোসেন ধলু পুলিশের এসআই, সরনজাই গ্রামের ইকবাল হোসেন সহকারী শিক্ষক, চাপড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেন মুংলা প্রাথমিক বিদ্যালেয়র দপ্তরি, আমশো গ্রামের মাহাবুর, সরনজাই গ্রামের বাবু এরকম অসংখ্য উদাহারণ রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় চাকরির মেলা করে বিনা পয়সায় হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেটা নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষ জানেন। তাছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে যদি তার বাণিজ্যে করার ইচ্ছে থাকতো তাহলে তিনি কাশিম বাজার সরকারী পলিটেকনিক কলেজ নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা মুল্যর ব্যক্তিগত সম্পদ(জমি) সেচ্ছায় দান করতেন না।আসাদের সংবাদ সম্মেলন আরো বলা হয়েছে এমপির বিরুদ্ধে ২০ ধরনের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দুদক।
রাজনৈতিক বিশ্লষক মহলের ভাষ্য, একজন এমপির বিরুদ্ধে ২০ ধরণের কেনো ১০০ ধরণের দুর্নীতির তদন্ত হতে পারে। বরং এটাতো ভাল খবর একজন এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে তার মানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে তায় নয় কি ?
কিন্ত্ত তদন্ত হওয়া আর দুনীতি করা এক বিষয়।আদালতে দুর্নীতি প্রমাণ না হলে কি একজন মানুষকে দুর্নীতিবাজ বলা যায়। তাহলে আসাদুজ্জামান আসাদ এই সংবাদ সম্মেলন কার বিরুদ্ধে করলেন এবং দেশবাসীকে তিনি কি ম্যাসেজ দিলেন ?

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

আসাদের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২

আলিফ হোসেন, তানোর-ঃ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ গত ১৬ জুলাই শনিবার রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর
সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এদিকে কথিত সংবাদ সম্মেলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্রক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড়, দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।আওয়ামী লীগের নেতা দাবী করে আওয়ামী লীগ দলীয় কোনো সাংসদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন এবং মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া যায় কি না সেটি একটি বড় প্রশ্ন, কারণ দলীয় সাংসদ কোনো অনিয়ম করলে দলের নীতিনির্ধারক মহলে তার বিরুদ্ধে নালিশ করা যায়, কিন্ত্ত সুনিদ্রিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ব্যতিত সাংসদের ভাবমুর্তিক্ষুন্ন হয় এমন বক্তব্য দেয়া যায় না। কারণ সাংসদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দল, নেতা ও নেতৃত্বের ভাবমুর্তি, যদি সেটা হয় তাহলে আসাদ কার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলেন এই প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ সেলিম রেজা নিজে মারধরের শিকার হয়েছেন এবং সেদিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে কথোপোকথন করেছে এমনটি দাবি করে সেটির অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনান। এখন প্রশ্ন হলো সেই অধ্যক্ষ নিজেই যখন এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন। তখন আসাদ অভিযোগ সত্য প্রমাণে অতিউৎসাহী হয়ে কেনো এমন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আর ডিজিটাল যুগে যেকারো কন্ঠ নকল করে অডিও কথোপকথন করা যায়, যে কারণে আদালতে অডিও কথোপকথন গ্রহণযোগ্য নয়।এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে
এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়ম-অসঙ্গতি তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে প্রথম অভিযোগ, অর্থআত্নসাৎ, কিন্ত্ত এটা ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কারণ কিভাবে কার কাছে থেকে কত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার কোনো ব্যাক্ষা নাই, অথচ সুনির্দিষ্ট ও লিখিত তথ্য প্রমাণ ব্যতিত একজন সাংসদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা এক ধরনের অপরাধ। দ্বিতীয় অভিযোগ খাসজমি ইজারায় দুর্নীতি, এটা হাস্যকর খাস জমি ইজারা এমপিরা দেয় না, আর কোথায় কার কাছে এমপি খাস জমি ইজারা দিয়ে দুর্নীতি করলেন তার সুনিদ্রিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হোক সেটা কি তার কাছে আছে ? তৃতীয় অভিযোগ, স্কুল-কলেজ মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি এবং জামায়াত-বিএনপির ব্যক্তিদের নিয়োগ এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। কারণ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির এখানে এমপির নাম আসছে কেনো, কেউ কি বলতে পারবেন চাকরি দিয়ে এমপি কারো কাছে থেকে কোনো টাকা-পয়সা নিয়েছেন। অথচ এমপি ফারুক বিনা পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-পুলিশের এসআই থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্কুলের দপ্তরি হিসেবে অসংখ্য মানুষকে চাকরি দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম ধানতৈড় গ্রামের আব্দুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিল্লী গ্রামের আদিবাসি পুর্নিমা পুলিশ সদস্য, গোল্লাপাড়া গ্রামের বোরজাহান হোসেন ধলু পুলিশের এসআই, সরনজাই গ্রামের ইকবাল হোসেন সহকারী শিক্ষক, চাপড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেন মুংলা প্রাথমিক বিদ্যালেয়র দপ্তরি, আমশো গ্রামের মাহাবুর, সরনজাই গ্রামের বাবু এরকম অসংখ্য উদাহারণ রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় চাকরির মেলা করে বিনা পয়সায় হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেটা নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষ জানেন। তাছাড়া শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে যদি তার বাণিজ্যে করার ইচ্ছে থাকতো তাহলে তিনি কাশিম বাজার সরকারী পলিটেকনিক কলেজ নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা মুল্যর ব্যক্তিগত সম্পদ(জমি) সেচ্ছায় দান করতেন না।আসাদের সংবাদ সম্মেলন আরো বলা হয়েছে এমপির বিরুদ্ধে ২০ ধরনের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দুদক।
রাজনৈতিক বিশ্লষক মহলের ভাষ্য, একজন এমপির বিরুদ্ধে ২০ ধরণের কেনো ১০০ ধরণের দুর্নীতির তদন্ত হতে পারে। বরং এটাতো ভাল খবর একজন এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে তার মানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে তায় নয় কি ?
কিন্ত্ত তদন্ত হওয়া আর দুনীতি করা এক বিষয়।আদালতে দুর্নীতি প্রমাণ না হলে কি একজন মানুষকে দুর্নীতিবাজ বলা যায়। তাহলে আসাদুজ্জামান আসাদ এই সংবাদ সম্মেলন কার বিরুদ্ধে করলেন এবং দেশবাসীকে তিনি কি ম্যাসেজ দিলেন ?