এখন ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৮ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি ) বেলা ১১টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক শুনানির পর চার্জশিট গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে তা আমলে নিয়েছেন। তবে এ মামলার চার্জগঠনের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। চার্জশিটে কোনো ধরনের আপত্তি জানাননি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। 

এদিকে আজ নির্ধারিত তারিখে এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আট আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। 

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে এ মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। 

পরে রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিল। এদিন বাদীপক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানাতে এক সপ্তাহের সময় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোহিতুল হক। 

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়াকে সরাসরি ধর্ষণে সম্পৃক্ত এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের সবাই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। 

বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ও ১০ জানুয়ারি দুই দফায় মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের তারিখ পেছানো হয়। এরপর মঙ্গলবার আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে এসএমপি শাহপরান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে করে র‌্যাব ও পুলিশ। সন্দেহভাজন দুই আসামী হলেন- আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া। গ্রেফতারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে সকলেই দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি বিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

এমসি কলেজে গণধর্ষণ, ৮ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারী ২০২১

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি ) বেলা ১১টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক শুনানির পর চার্জশিট গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে তা আমলে নিয়েছেন। তবে এ মামলার চার্জগঠনের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। চার্জশিটে কোনো ধরনের আপত্তি জানাননি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। 

এদিকে আজ নির্ধারিত তারিখে এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আট আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। 

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে এ মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। 

পরে রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিল। এদিন বাদীপক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানাতে এক সপ্তাহের সময় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোহিতুল হক। 

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়াকে সরাসরি ধর্ষণে সম্পৃক্ত এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের সবাই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। 

বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ ও ১০ জানুয়ারি দুই দফায় মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের তারিখ পেছানো হয়। এরপর মঙ্গলবার আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে এসএমপি শাহপরান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে করে র‌্যাব ও পুলিশ। সন্দেহভাজন দুই আসামী হলেন- আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া। গ্রেফতারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে সকলেই দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি বিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।