এখন ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষি ঐতিহ্য জব্বারের বলীখেলা!

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম -ঃ অনেক আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে চট্টগ্রামের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির জব্বারের বলী খেলা। সব শঙ্কা উড়িয়ে আজ সোমবার বিকেল ৩টায় শুরু হলো ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসর। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে বসেছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বলী খেলা ও মেলাকে ঘিরে উৎসব চলছে চট্টগ্রামে। এদিকে গতকাল রোববার এ উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে।

এবারের জব্বারের বলী খেলায় অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১০০ বলী। এর মধ্যে ‘পেশাদার’ বলীর পাশাপাশি শৌখিন বলীও রয়েছেন। সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করবেন পেশাদার বলীরা। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হবে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৪০ বলীকে। এদিকে এ খেলাকে ঘিরে লালদীঘির দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের বৈশাখী মেলা। মেলায় প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ী নানা পদের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন।

আট ফুট লম্বার বড় বড় বাঁশের খুঁটি। নিচে পিচঢালা রাস্তা হওয়ায় বিশেষভাবে স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো। সংখ্যায় ‘ওরা’ প্রায় ১০০টি। এরপর বাঁশগুলোর আগায় লাগানো হচ্ছে কাঠের তক্তা। পেরেক-হাতুড়ির মিলনে একটু একটু করে গড়ে উঠছে বলীখেলার মঞ্চ! ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলার ‘যুদ্ধের’ জন্য এভাবেই স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী রিং। লালদীঘি মাঠের কর্নারে চৌরাস্তার মোড়ে গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই শুরু হয় ২০ বাই ২০ হাতের এই মঞ্চ তৈরির কাজ।

১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে এই বলীখেলার সূচনা করেন চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর। ব্যতিক্রমধর্মী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ব্রিটিশ সরকার আবদুল জব্বার মিয়াকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকেও নামী-দামি বলীরা এ খেলায় অংশ নিতেন। সেই থেকে প্রতি বছরের বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে গত দুই বছর করোনায় ছেদ পড়েছিল সেই চেনা প্রেক্ষাপটে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

শতবর্ষি ঐতিহ্য জব্বারের বলীখেলা!

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০২২

রায়হান হোসাইন, চট্টগ্রাম -ঃ অনেক আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে চট্টগ্রামের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির জব্বারের বলী খেলা। সব শঙ্কা উড়িয়ে আজ সোমবার বিকেল ৩টায় শুরু হলো ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসর। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাকে ঘিরে বসেছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বলী খেলা ও মেলাকে ঘিরে উৎসব চলছে চট্টগ্রামে। এদিকে গতকাল রোববার এ উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে।

এবারের জব্বারের বলী খেলায় অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১০০ বলী। এর মধ্যে ‘পেশাদার’ বলীর পাশাপাশি শৌখিন বলীও রয়েছেন। সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করবেন পেশাদার বলীরা। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হবে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৪০ বলীকে। এদিকে এ খেলাকে ঘিরে লালদীঘির দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের বৈশাখী মেলা। মেলায় প্রায় ১ হাজার ব্যবসায়ী নানা পদের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন।

আট ফুট লম্বার বড় বড় বাঁশের খুঁটি। নিচে পিচঢালা রাস্তা হওয়ায় বিশেষভাবে স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো। সংখ্যায় ‘ওরা’ প্রায় ১০০টি। এরপর বাঁশগুলোর আগায় লাগানো হচ্ছে কাঠের তক্তা। পেরেক-হাতুড়ির মিলনে একটু একটু করে গড়ে উঠছে বলীখেলার মঞ্চ! ঐতিহাসিক আবদুল জব্বারের বলীখেলার ‘যুদ্ধের’ জন্য এভাবেই স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী রিং। লালদীঘি মাঠের কর্নারে চৌরাস্তার মোড়ে গতকাল শনিবার দুপুর থেকেই শুরু হয় ২০ বাই ২০ হাতের এই মঞ্চ তৈরির কাজ।

১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে এই বলীখেলার সূচনা করেন চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর। ব্যতিক্রমধর্মী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য ব্রিটিশ সরকার আবদুল জব্বার মিয়াকে খান বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও বার্মার আরাকান অঞ্চল থেকেও নামী-দামি বলীরা এ খেলায় অংশ নিতেন। সেই থেকে প্রতি বছরের বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে গত দুই বছর করোনায় ছেদ পড়েছিল সেই চেনা প্রেক্ষাপটে।