মোঃ সামছু উদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধি -ঃ আগামী ২৮ নভেম্বর নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেনবাগ পৌরসভা ও সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মাঝে ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
উক্ত নির্বাচনে দলীয় হাইকমান্ড এর সিন্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থীতা ঘোষণা থেকে বিরত রয়েছেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল, জাতীয় পার্টির যোগ্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় জাতীয় পার্টিও অংশ গ্রহন করছেন না এ নির্বাচনে।
মাঠ বরাবরই শূন্য। মাঠে অবস্থান করছেন একমাত্র ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। শূন্য মাঠ পূর্ণ করতে, মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ। কেউ হয়েছেন জনগণের মনোনীত প্রার্থী, কাউকে মনোনয়ন দিয়েছেন দল, মানে তিনি হলেন নৌকার মাঝি। কেউ হলেন বিদ্রোহী, কেউবা আবার তন্ত্র-মন্ত্র ছাড়া স্বতন্ত্র। সবাই কিন্তু একই ঘরানার মানুষ।
যে প্রতীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সে প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক গুলো প্রশ্নের জম্ম দেয়। যে প্রতিযোগিতায় ধানের শীষ, লাঙ্গল কিংবা দাঁড়িপাল্লা নেই। সে প্রতিযোগিতায় নৌকা অবস্থান নেবে কার বিরুদ্ধে?
সবাই তো একই প্রতীকের পূঁজারী।
তাই খেলা হবে মাঠে! প্রতিযোগিতা হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। এক অসম প্রতিযোগিতা। কেউই মাঠ ছেড়ে পালাবেনা। কারণ এটি হতে পারে প্রার্থীদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, আধিপত্য বিস্তারের লড়াই, ইজ্জত রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে কেউই সহজে পরাজিত হতে চাইবেন না। সবাই ক্ষমতাসীন, সবাই ত্যাগী, সবাই আওমীলীগার।
ইতোমধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের প্রথম দৃশ্য অবলোকন করেছে সেনবাগবাসী। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সেনবাগের বিভিন্ন জায়গায় হামলা পাল্টা হামলা, ধরপাকড়, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, বিবৃতি পাল্টা বিবৃতি সহ নানা কর্মসূচী। এটি একটি অশনিসংকেত মাত্র। আরো বেশি কিছু ঘটতে পারে যদি না প্রশাসন একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ব্যর্থ হয়।
আমরা আশা করি স্থানীয় জনগণ তাদের নিরপেক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে, তাদের যোগ্য প্রতিনিধি তারাই নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন। এতে করে কিছুটা হলেও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকবে, নচেৎ এটুকুও যাবে রসাতলে।
















