
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন দায়িত্বশীলের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক ঘোষণায় সেন্টারের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান আব্দুল্লাহ আল জাবের। একই সঙ্গে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন সেন্টারের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা। তারা তাদের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তবে এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘ওয়ারিশদের দাবির’ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এতে শহীদের পরিবারকে অযথা বিতর্কের মুখে ফেলা হচ্ছে।
মাসুমা হাদি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তার ভাইয়ের উত্তরাধিকারী কেবল তার মা, স্ত্রী ও সন্তান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “এই তিনজনের মধ্যে কে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব দাবি করেছে?”
তিনি আরও লেখেন, পদত্যাগ করা বা না করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ওয়ারিশদের দাবি’ উল্লেখ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ফেসবুক পোস্টে মাসুমা হাদি দাবি করেন, তিনি কখনোই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের কোনো পদ-পদবি চাননি। বরং তার লক্ষ্য ছিল ভাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা। এর মধ্যে রয়েছে—তার ভাইয়ের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ, স্থায়ী নামফলক স্থাপন, শহীদের তালিকায় গেজেটভুক্তির উদ্যোগ এবং সেন্টারের সদস্যদের সহযোগিতায় এসব কাজ সম্পন্ন করা।
তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই সেন্টারের অনেক দায়িত্বশীল তার সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে গেছেন। যদিও কোরবানির ঈদের সময় সেন্টারের কয়েকজন প্রতিনিধি তাকে আবারও প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি তাদের জানান, তার ব্যক্তিগত কোনো পদ বা দায়িত্বের প্রয়োজন নেই; তিনি শুধু চান প্রতিষ্ঠাতা ওসমানের আদর্শ যেন অক্ষুণ্ন থাকে।
মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, হঠাৎ করেই পরিবারের নাম ব্যবহার করে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে? একজন শহীদের পরিবারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্য কী?”
ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দায়িত্বশীল হিসেবে থাকা ওমর হাদিকে সেন্টারের ব্যাংক হিসাবের নমিনি করা হয়েছিল। ওমর বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
পোস্টের শেষাংশে মাসুমা হাদি বলেন, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের অর্থায়নে গড়ে ওঠা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্বল বা ধ্বংস করার বিভিন্ন চেষ্টা চলছে এবং এ ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমা তাদের পদত্যাগের ঘোষণায় ‘ওয়ারিশদের দাবির’ বিষয়টি উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সেন্টারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
















