এখন ০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গজারিয়ায় হাসপাতালের ময়লার স্তূপে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, তদন্তে প্রশাসন

গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর উদ্যোগ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় এক সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসা কান্নার শব্দ অনুসরণ করে হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের এক আয়া হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রথমে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্যরত নার্সদের জানান। পরে তারা শব্দের উৎস অনুসরণ করে হাসপাতালের ময়লার স্তূপে গিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে জীবিত দেখতে পান। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খাঁন জানান, উদ্ধারকৃত নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিশুটির সার্বিক শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া। শিশুটিকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,
“আমি নিজেও একজন মা। খবরটি শোনার পর স্থির থাকতে পারিনি। শিশুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কীভাবে এবং কারা শিশুটিকে এখানে ফেলে গেছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে একটি নিষ্পাপ নবজাতককে হাসপাতালের ময়লার স্তূপে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
শিশুটির মানবিক সুরক্ষা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

গজারিয়ায় হাসপাতালের ময়লার স্তূপে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, তদন্তে প্রশাসন

গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার স্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় এক সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসা কান্নার শব্দ অনুসরণ করে হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের এক আয়া হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রথমে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে কর্তব্যরত নার্সদের জানান। পরে তারা শব্দের উৎস অনুসরণ করে হাসপাতালের ময়লার স্তূপে গিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে জীবিত দেখতে পান। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হয়।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খাঁন জানান, উদ্ধারকৃত নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিশুটির সার্বিক শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফসা নাদিয়া। শিশুটিকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন,
“আমি নিজেও একজন মা। খবরটি শোনার পর স্থির থাকতে পারিনি। শিশুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কীভাবে এবং কারা শিশুটিকে এখানে ফেলে গেছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে একটি নিষ্পাপ নবজাতককে হাসপাতালের ময়লার স্তূপে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
শিশুটির মানবিক সুরক্ষা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়েও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।