
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ১১ জনসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার বাড়ুর বাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা থেকে নববধূকে নিয়ে মোংলার উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনরা ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার বাড়ুর বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল রাজ্জাকের পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে গাড়ির চালক ছাড়া বাকিরা একই পরিবারের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
উদ্ধার অভিযান ও আহতদের চিকিৎসা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। গুরুতর আহতদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে।
পুলিশের বক্তব্য
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মাইক্রোবাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো থানায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে নিহতদের স্বজনরা সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এলাকায় শোকের ছায়া
একই পরিবারের এতজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকদিন দেখা যায়নি। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এই দুর্ঘটনাও আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

















