
বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্বপ্ন ছিল সোনালী ধানের হাসি ঘরে তুলবেন। সেই আশাতেই শ্রমিক নিয়ে জমিতে গিয়েছিলেন কৃষক আহাদ মিয়া (৫৫)। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম রূপ সবকিছু কেড়ে নিল এক মুহূর্তেই। জমিতে গিয়ে দেখেন, তার ছয় বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বছরের পর বছর পরিশ্রম আর পরিবারের স্বপ্ন—সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে।
এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই তিনি অচেতন হয়ে জমিতে পড়ে যান। পরে ধারণা করা হয়, তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই পরিশ্রমী কৃষক।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। ধানের ক্ষেতেই নিভে যায় তার জীবনের প্রদীপ।
আহাদ মিয়ার পরিবার জানায়, এই ছয় বিঘা জমির ধানই ছিল তাদের বছরের একমাত্র ভরসা। সেই ফসল ঘিরেই ছিল সংসারের খরচ, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু হঠাৎ বন্যার পানিতে সব তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও উজানের পানিতে হঠাৎ করেই জমিতে পানি উঠে যায়। এতে অনেক কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে। তবে আহাদ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে শুধু ফসল নয়, হারাতে হচ্ছে মানুষের জীবনও।
এ ঘটনা শুধু একটি ফসলহানির গল্প নয়—এটি একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্প। একজন কৃষকের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং জীবনের অবসান ঘটেছে নিজের জমিতেই।
আমরা যখন একটি ফসল হারাই, তখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় না—হারিয়ে যায় একটি পরিবারের আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।















