এখন ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিএনপি নেতা ও দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদককে প্রশাসক নিয়োগ; জেলাজুড়ে প্রত্যাশা নতুন উন্নয়নের

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান

  • লুৎফর সিকদার
  • প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৭৬২ পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলার প্রবীণ রাজনীতিক শরীফ রফিকউজ্জামান। রোববার সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শরীফ রফিকউজ্জামানের এই নিয়োগকে ঘিরে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
রাজপথের লড়াই থেকে প্রশাসনের দায়িত্বে
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, হামলা-মামলা এবং রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা শরীফ রফিকউজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন সহজ ছিল না। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে থেকেও তিনি দলের আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অনুগত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তার সাহসী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে জেলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন শরীফ রফিকউজ্জামান।
তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়
গোপালগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ
শরীফপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
এছাড়া তিনি সামাজিক সংগঠন ফেয়ার ইনফরমেশন বাংলাদেশ (এফআইবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এর আগে তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও বাস্তবতা কাছ থেকে বুঝতে সহায়তা করেছে।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা
শরীফ রফিকউজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিক নন; তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি সংবাদপত্রের নীতি নির্ধারণ, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
জেলার উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গোপালগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে একই সঙ্গে সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলাবাসীর প্রত্যাশা
স্থানীয়দের মতে, তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার হাতে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে। দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব এবং আধুনিক জেলা পরিষদ গড়ে তোলাই এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
শরীফ রফিকউজ্জামানের এই নিয়োগকে অনেকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সামাজিক অবদান ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বিএনপি নেতা ও দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদককে প্রশাসক নিয়োগ; জেলাজুড়ে প্রত্যাশা নতুন উন্নয়নের

গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলার প্রবীণ রাজনীতিক শরীফ রফিকউজ্জামান। রোববার সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শরীফ রফিকউজ্জামানের এই নিয়োগকে ঘিরে গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
রাজপথের লড়াই থেকে প্রশাসনের দায়িত্বে
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, হামলা-মামলা এবং রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা শরীফ রফিকউজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন সহজ ছিল না। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে থেকেও তিনি দলের আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অনুগত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তার সাহসী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে জেলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন শরীফ রফিকউজ্জামান।
তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়
গোপালগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ
শরীফপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
এছাড়া তিনি সামাজিক সংগঠন ফেয়ার ইনফরমেশন বাংলাদেশ (এফআইবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এর আগে তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও বাস্তবতা কাছ থেকে বুঝতে সহায়তা করেছে।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে সম্পৃক্ততা
শরীফ রফিকউজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিক নন; তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি সংবাদপত্রের নীতি নির্ধারণ, সম্পাদনা ও সংবাদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
জেলার উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা
জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গোপালগঞ্জের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে একই সঙ্গে সদর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জেলাবাসীর প্রত্যাশা
স্থানীয়দের মতে, তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার হাতে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন গতি পাবে। দুর্নীতিমুক্ত, জনবান্ধব এবং আধুনিক জেলা পরিষদ গড়ে তোলাই এখন তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
শরীফ রফিকউজ্জামানের এই নিয়োগকে অনেকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সামাজিক অবদান ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন।