এখন ০৩:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দেশের বন্দর ও সম্পদ রক্ষায় নাগরিকদের আওয়াজ—বিদেশি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়ছে

‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না’—বন্দরের স্বার্থে জনমতের জোয়ার

ডেক্স রিপোর্টঃ ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না’—বিদেশি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর নীতিগত মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশেষ করে “আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না”—এই স্লোগানটি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা এবং বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি বন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের নামে বিদেশি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির কিছু প্রস্তাব আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন মহল এ ধরনের পদক্ষেপকে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে। তাদের দাবি, বন্দর শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রই নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বন্দরগুলো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। তাই বিদেশি শক্তির হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিচালনাগত ক্ষমতা চলে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশীয় শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনেক সময় উন্নয়নের জন্য সহায়ক হয়। তবে পুরোপুরি বা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর জাতীয় স্বার্থের জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে। তাদের মতে, বিদেশি অংশীদারির যেকোনো চুক্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় করতে হবে।

এদিকে, বন্দর সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জেলার স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। তারা জানিয়েছে, দেশের কৌশলগত এলাকা বিদেশিদের কাছে তুলে দিলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে “আমার বন্দর আমার মা”—এই আবেগভরা স্লোগানটি তাদের প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেশের বন্দরগুলো নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং কোনো প্রকার মালিকানা হস্তান্তরের বিষয় নেই। সব আলোচনা হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য।

তবে নাগরিক সমাজ জোর দিয়ে বলছে—এমন সিদ্ধান্তগুলোতে জনগণের মতামত নিতে হবে এবং প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে।

দেশের বন্দরকে ঘিরে বিতর্ক বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

দেশের বন্দর ও সম্পদ রক্ষায় নাগরিকদের আওয়াজ—বিদেশি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাড়ছে

‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না’—বন্দরের স্বার্থে জনমতের জোয়ার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ডেক্স রিপোর্টঃ ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না’—বিদেশি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর নীতিগত মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশেষ করে “আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেবো না”—এই স্লোগানটি দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা এবং বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, সম্প্রতি বন্দর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের নামে বিদেশি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির কিছু প্রস্তাব আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন মহল এ ধরনের পদক্ষেপকে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে। তাদের দাবি, বন্দর শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রই নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বন্দরগুলো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। তাই বিদেশি শক্তির হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিচালনাগত ক্ষমতা চলে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশীয় শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনেক সময় উন্নয়নের জন্য সহায়ক হয়। তবে পুরোপুরি বা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর জাতীয় স্বার্থের জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে। তাদের মতে, বিদেশি অংশীদারির যেকোনো চুক্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় করতে হবে।

এদিকে, বন্দর সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জেলার স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। তারা জানিয়েছে, দেশের কৌশলগত এলাকা বিদেশিদের কাছে তুলে দিলে ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে “আমার বন্দর আমার মা”—এই আবেগভরা স্লোগানটি তাদের প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেশের বন্দরগুলো নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় স্বার্থই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এবং কোনো প্রকার মালিকানা হস্তান্তরের বিষয় নেই। সব আলোচনা হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য।

তবে নাগরিক সমাজ জোর দিয়ে বলছে—এমন সিদ্ধান্তগুলোতে জনগণের মতামত নিতে হবে এবং প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে।

দেশের বন্দরকে ঘিরে বিতর্ক বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।