এখন ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগীতা করতে হবে এবং চাঁদাবাজদের পুলিশে দিবেন – মির্জা ফখরুল ইসলাম

ডেক্স রিপোর্টঃ বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগীতা করতে হবে। সংস্কারের জন্য তাদের সহযোগীতা করতে হবে। আমরা আজ একটা মুক্ত বাংলাদেশে এসেছি। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রশ্ন করেন শেখ হাসিনা আজ কোথায় ?  শেখ হাসিনা বিদেশে পালিয়ে গেছে। তার মন্ত্রী, এমপিরা আজ সব জেলে রয়েছে। আবার অনেকে বিদেশ পালিয়ে গেছে। তিনি আবার নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং আমরা কি পালিয়েছি? তখন নেতা -কর্মীরা সম্মুচরে বলেন। না, না। আমাদের ছেলেদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। আওয়ামীলীগ পালালেও তাদের পেত্ত্বারা এখনো রয়ে গেছে। তারা আবার চেষ্টা করবে কিভাবে ফিরে আসা যায়। আমাদের সাতশ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। কয়েক হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ঐক্যকে শক্ত করে ধরে রাখতে হবে।
তিনি শনিবার (৩১ আগষ্ট) বিকালে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও নাঙ্গলকোট এ আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দান কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, আমি এখানে নির্বাচনী ক্যাম্প করতে আসিনি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশ নায়েক তারেক জিয়ার নির্দেশে বন্যা দুর্গতদের দেখতে এসেছি। গত ১৬ বছর যে ফ্যাসিবাদ আমাদের বুক চেপে বসেছিল। আজ তারা বুক থেকে সরে গেছে। এতে অনেকে মনে করছেন তারা ক্ষমতায় এসে গেছে। সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সহযোগিতা করতে হবে। নাহলে তারা আবার ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করবে। আমাদেরকে এ সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আবদুল গফুর ভূইয়া। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুিিমল্লা বিভাগিয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপির কে›ন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন নয়ন প্রমুখ। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য সামছুউদ্দিন দিদার।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদেরকে এখন অর্থনীতি, বিচার ব্যাবস্থ্যা, পুলিশ প্রশাসন এবং মিডিয়াকে ঢেলে সাজাতে হবে। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, ইলেকশান কমিশনকে সাজাতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, গত ১৬ বছর কি আপনারা ভোট দিতে পেরেছেন ?  তখন নেতাকর্মীরা সমুচ্চরে বলেন। না, না। এগুলো করতে গেলে সময় দিতে হবে। যাতে করে আমরা মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারি। তিনি বি এনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলবে না। যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করবে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সোপর্দ করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনাদেরকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আজকের এ সময়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নিজেদের মধ্যে কোন অশান্তি করবেন না। মানুষের মধ্যে শান্তি দিতে পারলে তাদের মধ্যে অনেকদিন বেঁচে থাকা যায়। নিজেদের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। বন্যায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বাড়িঘর করে দেওয়ায় জন্য চেষ্টা করবো। এসময় তিনি বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগীতা করতে হবে এবং চাঁদাবাজদের পুলিশে দিবেন – মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪

ডেক্স রিপোর্টঃ বিএনপির মহা সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগীতা করতে হবে। সংস্কারের জন্য তাদের সহযোগীতা করতে হবে। আমরা আজ একটা মুক্ত বাংলাদেশে এসেছি। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রশ্ন করেন শেখ হাসিনা আজ কোথায় ?  শেখ হাসিনা বিদেশে পালিয়ে গেছে। তার মন্ত্রী, এমপিরা আজ সব জেলে রয়েছে। আবার অনেকে বিদেশ পালিয়ে গেছে। তিনি আবার নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং আমরা কি পালিয়েছি? তখন নেতা -কর্মীরা সম্মুচরে বলেন। না, না। আমাদের ছেলেদের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। আওয়ামীলীগ পালালেও তাদের পেত্ত্বারা এখনো রয়ে গেছে। তারা আবার চেষ্টা করবে কিভাবে ফিরে আসা যায়। আমাদের সাতশ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। কয়েক হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ঐক্যকে শক্ত করে ধরে রাখতে হবে।
তিনি শনিবার (৩১ আগষ্ট) বিকালে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও নাঙ্গলকোট এ আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দান কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, আমি এখানে নির্বাচনী ক্যাম্প করতে আসিনি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশ নায়েক তারেক জিয়ার নির্দেশে বন্যা দুর্গতদের দেখতে এসেছি। গত ১৬ বছর যে ফ্যাসিবাদ আমাদের বুক চেপে বসেছিল। আজ তারা বুক থেকে সরে গেছে। এতে অনেকে মনে করছেন তারা ক্ষমতায় এসে গেছে। সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সহযোগিতা করতে হবে। নাহলে তারা আবার ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করবে। আমাদেরকে এ সরকার, প্রশাসন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আবদুল গফুর ভূইয়া। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুিিমল্লা বিভাগিয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, বিএনপির কে›ন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন নয়ন প্রমুখ। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইং সদস্য সামছুউদ্দিন দিদার।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদেরকে এখন অর্থনীতি, বিচার ব্যাবস্থ্যা, পুলিশ প্রশাসন এবং মিডিয়াকে ঢেলে সাজাতে হবে। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, ইলেকশান কমিশনকে সাজাতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন রেখে বলেন, গত ১৬ বছর কি আপনারা ভোট দিতে পেরেছেন ?  তখন নেতাকর্মীরা সমুচ্চরে বলেন। না, না। এগুলো করতে গেলে সময় দিতে হবে। যাতে করে আমরা মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারি। তিনি বি এনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলবে না। যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করবে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সোপর্দ করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আপনাদেরকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আজকের এ সময়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নিজেদের মধ্যে কোন অশান্তি করবেন না। মানুষের মধ্যে শান্তি দিতে পারলে তাদের মধ্যে অনেকদিন বেঁচে থাকা যায়। নিজেদের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। বন্যায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বাড়িঘর করে দেওয়ায় জন্য চেষ্টা করবো। এসময় তিনি বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরন করেন।