এখন ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হাবিবের জয়লাভ

আনহার বিন সাইদ -ঃ সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে দিনভর নানা নাটকীয়তার ভোটগ্রহণ শেষে হাবিবকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এই জয়ের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। নির্বাচনে ৩০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে।

জানা গেছে, আসনভূক্ত তিন উপজেলার ১৪৯টি কেন্দ্রের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে নৌকা প্রতীক। নৌকা প্রতীক নিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭০৫টি ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬০৪ ভোট।

অর্থাৎ ৬৫ হাজার ১০১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব।

বাকি দুই প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী (মোটরগাড়ি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।

সিলেট-৩ আসনভুক্ত চার থানার মধ্যে বালাগঞ্জে নৌকা ২৪ হাজার ২৭৩ ভোট, লাঙ্গল ৩ হাজার ৩৩৭ ভোট, ফেঞ্চুগঞ্জে নৌকা ২২ হাজার ২২৪ ভোট, লাঙ্গল ৪ হাজার ৫৫৬ ভোট, মোগলাবাজারে নৌকা ২০ হাজার ৭৪৪ ভোট, লাঙ্গল ১৩ হাজার ৫৮৮ ভোট এবং দক্ষিণ সুরমায় নৌকাে ২২ হাজার ৪৬৪ ভোট ও লাঙ্গল ৩ হাজার ১২৩ ভোট পেয়েছে।

এই উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো সিলেটে কোনো আসনের সবকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হলো। ইভিএমের কারণে ভোটাররা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ভোট দিতে পেরেছেন।

ফলে কোনো কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা যায়নি। দুই মাসের বেশি প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ তৈরি করতে পারেননি কোনো প্রার্থী।

ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী।

তবে সকালে আতিকুর রহমান আতিক অভিযোগ করেন, ফেঞ্চুগঞ্জের ৭টি কেন্দ্র ও দক্ষিণ সুরমার কুচাই শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

লাঙ্গলের ভোটারদের জোর করে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে ফলাফলের পর তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিবকে। সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ নিয়ে।

এই উপনির্বাচন দেশের জন্য মডেল হিসেবেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নির্বাচন থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ায় ভোট প্রদান কাঙ্ক্ষিত হয়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, ভোটারদের ভেতর থেকে ভয়ভীতি দূর না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ভোট কাস্ট হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ভীতি দূর করতে হবে।

এদিকে, বিজয়ের পর হাবিবুর রহমান হাবিব তার এই বিজয়কে নির্বাচনী এলাকার জনগণকে উৎসর্গ করে বলেন, এই উপ-নির্বাচনে ভোটাররা প্রমাণ করেছেন তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল। তারা উন্নয়ন চান। সিলেট-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হাবিবের জয়লাভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আনহার বিন সাইদ -ঃ সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে দিনভর নানা নাটকীয়তার ভোটগ্রহণ শেষে হাবিবকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এই জয়ের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। নির্বাচনে ৩০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে।

জানা গেছে, আসনভূক্ত তিন উপজেলার ১৪৯টি কেন্দ্রের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে নৌকা প্রতীক। নৌকা প্রতীক নিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭০৫টি ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬০৪ ভোট।

অর্থাৎ ৬৫ হাজার ১০১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব।

বাকি দুই প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ শফি আহমেদ চৌধুরী (মোটরগাড়ি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি।

সিলেট-৩ আসনভুক্ত চার থানার মধ্যে বালাগঞ্জে নৌকা ২৪ হাজার ২৭৩ ভোট, লাঙ্গল ৩ হাজার ৩৩৭ ভোট, ফেঞ্চুগঞ্জে নৌকা ২২ হাজার ২২৪ ভোট, লাঙ্গল ৪ হাজার ৫৫৬ ভোট, মোগলাবাজারে নৌকা ২০ হাজার ৭৪৪ ভোট, লাঙ্গল ১৩ হাজার ৫৮৮ ভোট এবং দক্ষিণ সুরমায় নৌকাে ২২ হাজার ৪৬৪ ভোট ও লাঙ্গল ৩ হাজার ১২৩ ভোট পেয়েছে।

এই উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো সিলেটে কোনো আসনের সবকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হলো। ইভিএমের কারণে ভোটাররা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ভোট দিতে পেরেছেন।

ফলে কোনো কেন্দ্রেই ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা যায়নি। দুই মাসের বেশি প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ তৈরি করতে পারেননি কোনো প্রার্থী।

ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমেদ চৌধুরী।

তবে সকালে আতিকুর রহমান আতিক অভিযোগ করেন, ফেঞ্চুগঞ্জের ৭টি কেন্দ্র ও দক্ষিণ সুরমার কুচাই শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

লাঙ্গলের ভোটারদের জোর করে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে ফলাফলের পর তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিবকে। সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ নিয়ে।

এই উপনির্বাচন দেশের জন্য মডেল হিসেবেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নির্বাচন থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাওয়ায় ভোট প্রদান কাঙ্ক্ষিত হয়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, ভোটারদের ভেতর থেকে ভয়ভীতি দূর না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ভোট কাস্ট হয়নি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই ভীতি দূর করতে হবে।

এদিকে, বিজয়ের পর হাবিবুর রহমান হাবিব তার এই বিজয়কে নির্বাচনী এলাকার জনগণকে উৎসর্গ করে বলেন, এই উপ-নির্বাচনে ভোটাররা প্রমাণ করেছেন তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল। তারা উন্নয়ন চান। সিলেট-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।