এখন ০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ইন্তেকাল

সুরাইয়া আক্তার সুমি, বার্তা সম্পাদক -ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯.৩০ মিনিটে গুলশানে নিজ বাসায় ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রাত ১০টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্রখ্যাত ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ সহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় ছিলেন।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন শেষ দিকে এসে বিএনপির নেতৃত্ব ও দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মুখর ছিলেন। তিনি দলটির স্থায়ী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় একাধিকবার সমালোচনাও করেছেন দলের। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। পরে আদালতের রায়ে খালাস পান। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে এরশাদ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে সক্রিয় ছিলেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মৃত্যুকালে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এক ছেলে ও এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ২০০৯ সালে ইন্তেকাল করেছেন।

জানাজার বিষয়ে দলের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। ছেলে আমেরিকার আছেন, তাকে মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে।

শায়রুল কবির খান জানান, সর্বশেষ গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে অসুস্থ কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে গিয়েছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ইন্তেকাল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

সুরাইয়া আক্তার সুমি, বার্তা সম্পাদক -ঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯.৩০ মিনিটে গুলশানে নিজ বাসায় ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রাত ১০টার দিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্রখ্যাত ছাত্রনেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ সহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও প্রথম সারিতে ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় ছিলেন।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন শেষ দিকে এসে বিএনপির নেতৃত্ব ও দলটির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মুখর ছিলেন। তিনি দলটির স্থায়ী কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় একাধিকবার সমালোচনাও করেছেন দলের। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। পরে আদালতের রায়ে খালাস পান। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে এরশাদ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বিএনপিতে সক্রিয় ছিলেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মৃত্যুকালে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এক ছেলে ও এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ২০০৯ সালে ইন্তেকাল করেছেন।

জানাজার বিষয়ে দলের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। ছেলে আমেরিকার আছেন, তাকে মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে।

শায়রুল কবির খান জানান, সর্বশেষ গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে অসুস্থ কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে গিয়েছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।