নিজস্ব প্রতিনিধি -ঃ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার চিত্র দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন উঠতি বয়সের কিছু বখাটে ছেলে-মেয়ে টিকটক তৈরীর নামে, করে আসছে অসামাজিক ও অশালীন কর্মকাণ্ড। এই কর্মকান্ডে কেউ বাঁধা দিতে আসলে ঐ সকল বখাটেরা একজোট হয়ে বাঁধাদানকারীকে হেনস্থ করে ছাড়ে। নারায়ণগঞ্জবাসীর মতে, নারায়ণগঞ্জে অপরাধ জগতের নতুন আতঙ্ক টিকটক নামে ‘কিশোর গ্যাং’ অনেকটাই সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অপ্রতিরোধ্য ‘কিশোর গ্যাং’। পাড়া-মহল্লায় দল বেঁধে অবাধে চলাফেরা করে। খুন, ধর্ষণ, হাঙ্গামা, দোকানে খাওয়ার পর টাকা নিয়ে ঝামেলা করা, মাদক সেবন, যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই যা তারা করে না। বয়স দেখলে বুঝার কোনও উপায় নেই, এদের সংঘটিত অপরাধ কত ভয়ঙ্কর হতে পারে।
একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রাথমিকভাবে বড় অপকর্ম করার সাহস না করলেও কিছু কিছু প্রভাবশালী নেতারা যখন তাদের কাজকর্ম করার জন্য প্রশ্রয় দিয়ে থাকে তখন সে সব গ্যাংয়ের সদস্যরা ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আর এ ভাবে গ্যাংগুলো মারাত্মক অপকর্ম করে থাকে।
এরা অনেকটা যে কোনো তুচ্ছ ঘটনায় চড়াও হচ্ছে যে কারো ওপর। ইপটিজিং করে যাচ্ছে বেপরোয়া ভাবে, কেউ মুখ খুলতে পরছেনা। অনেকের কাছে এরা এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। এদের শাসন করতে গিয়ে এলাকার সম্মানিত মানুষও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। পুলিশের নিকট কোন তালিকা না থাকায় কিংবা বয়সে কম হওয়ায় এরা গ্রেফতারের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অনেক সময় পুলিশ তাদের কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে প্রভাবশালী কিছু নেতারা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্য কিশোর গ্যাং এর পক্ষ নিয়ে এদেরকে ছাড়িয়ে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের অপকর্ম চলমান থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন উদাসীন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে মূলত নিম্নবিত্ত পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এ সব গ্যাং। সেই সাথে রয়েছে প্রভাবশালীদের বখে যাওয়া কিশোর সন্তানও।
বিষেশজ্ঞদের মতে ‘কিশোর গ্যাং’ এর মত অপরাধ নির্মুলের জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক মূল্যবোধ তৈরী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তণ, সেই সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে চৌকশ ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।















