আলিফ হোসেন, তানোর -ঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল (সম্মেলন) আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধানে সম্মেলন আয়োজিত হবে। সম্মেলন মঞ্চ, অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সম্মেলনের যাবতীয় সব কিছু দেখভাল করবেন উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে স্থানীয় সাংসদের করনীয় কিছু নাই। তবে
সম্মেলনে ইলেকশন বা সিলেকশন যাই হোক নৌকাবিরোধী সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন পদবঞ্চিত হবে এটা প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছে তৃণমুল।সুত্র জানায়, এই দুই নেতার কাছে থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ে পাওনাদারগণ এদিন তাদের পাকড়াও করার পরিকল্পনা করছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পিছনে পিছনে ঘুরেও তারা পাওনা টাকা পায়নি। এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে তাদের পাকড়াও করলে যদি টাকা পান সেই প্রত্যাশায় তাদের এই পরিকল্পনা।এদিকে তৃণমুল বলছে, যারা নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে, যারা বিদ্রোহীদের পক্ষে ভোট করেছে, যারা নৌকার পরাজয়ে প্রকাশ্যে বিজয় মিছিল ও বিদ্রোহীদের নিয়ে আনন্দ-উল্লাস করেছে তারা দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারা মোতাবেক অটো বহিস্কার, নেতৃত্ব তো পরের কথা সাংগঠনিক পদে তাদের প্রার্থী হবার যোগ্যতা নাই। অথচ এর পরেও যদি মামুনের সঞ্চালনায় ও গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে সম্মেলন করতে চাই তাহলে তৃণমুলের এসব নেতাকর্মীরা তা মেনে নিবেন না।
অন্যদিকে বিষয়টি উপলব্ধী করতে পেরে সভাপতি-সম্পাদকশিবির সম্মেলন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সুত্র বলছে, প্রথম অধিবেশনে কমিটি বিলুপ্ত করা হলে তারা সাধারণ কর্মী তখন যদি পাওনাদারগণ তাদের পাকড়াও করে তাহলে এর দায় নিবে কে ? অন্যদিকে তানোর পৌর মেয়র ইমরুল হক তিনি কেনো বিদ্রোহীদের দলে, এমপি যদি সুজনকে বিদ্রোহী প্রার্থী বা ইমরুলকে আর্থিক সহায়তা না করতেন তাহলে কি তিনি বিজয়ী হতে পারতেন। তাহলে বিদ্রোহী মেয়র সাইদুরের সঙ্গে ইমরুলের এতো মাখামাখি কেনো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসমর্থিত একটি সুত্র জানায়, বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব নৌকাবিরোধীদের মদদ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির কতিপয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নেপথ্যে মদদে নৌকাবিরোধীরা আওয়ামী লীগে থেকেও আওয়ামী লীগেরবিরোধীতা করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, জাতীয় রাজনীতিতে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী যাদের নিয়ে রাজনীতি করতে স্বাচ্ছন্নবোধ ও করেন তাদের নেতৃত্ব নিয়ে আশে এবং এমপির মনোনয়ন দেন। ঠিক তেমনি তৃণমুলে রাজনীতি করেন এমপি কাজেই নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব এমপিদের হাতে ন্যস্ত করা উচিৎ, কারণ সামনে সাধারণ নির্বাচন। এমপি যাদের নিয়ে রাজনীতি করতে স্বাচ্ছন্নবোধ ও বিশ্বাস করেন তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। কেননা এমপির অপচ্ছন্দের কেউ নেতৃত্বে আসলে নির্বাচনে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। সেই ক্ষেত্রে রাব্বানী ও মামুনের নেতৃত্বে আশার কোনো সুযোগ নাই। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যারা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, বিদ্রোহীদের মদদ দিয়েছে তাদের নেতৃত্বে আশার কোনো সুযোগ নাই। আওয়ামী লীগের তৃণমুল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।এটাও সত্যি প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করেন।
জানা গেছে, এবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আদর্শিক নেতৃত্ব লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার কোনো বিকল্প নাই। কারণ সিলেকশন বা ইলেকশন যাই হোক ময়নার সভাপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত এনিয়ে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই। ফলে সস্মেলনের মুল আলোচনা হচ্ছে সম্পাদক পদে আসছেন কে সেটা নিয়ে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন আলোচনায় রয়েছে এরা হলেন তানোর পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদিপ সরকার, চাঁন্দুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ও বাধাঁইড় ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রমুখ
















