
জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়: “উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), পঞ্চগড়ের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা, ঋণের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ শুকরিয়া পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো গ্রামীণ উন্নয়ন। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোছাঃ শুকরিয়া পারভীন বলেন, গ্রামকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পল্লী অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। তিনি সরকারি উদ্যোগ সফল করতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইম বলেন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তিনি তরুণদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, পল্লী উন্নয়নের প্রতিটি কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমবায়, ক্ষুদ্রঋণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আরও দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিআরডিবি পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, জেলায় বর্তমানে ১২টি প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ৭০০টি নিবন্ধিত সমিতি ও ৬৯৯টি দলের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৩৯৯টি দল ও সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের আওতায় ৩৮ হাজার ৫১৯ জন সদস্য ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছেন।
বিআরডিবির তথ্যানুযায়ী, বছরে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা শেয়ার জমা, ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা, ১৪ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ এবং ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণ আদায় করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে ১টি ব্যাচে ৪০ জনকে ৯ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই প্রকল্পের অধীনে ১৮টি ব্যাচে ৭২০ জন এবং মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের আওতায় ৪টি ব্যাচে ১২০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সময়ে ৮৮০ জন উপকারভোগীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি মোছাঃ শুকরিয়া পারভীন, বিশেষ অতিথি মোঃ আবু সাইম এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিআরডিবির বিভিন্ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), পঞ্চগড়ের উপপরিচালক এনামুল হক, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সমবায় সমিতির সদস্য, উপকারভোগী, সুধীজন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র দাস।













