
সম্পাদকীয়-ঃ
রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের ছয় ঘণ্টা পর মায়ের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কিশোর নিজন আমিন খানকে। মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি সম্পর্কে আবেগপূর্ণ মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় এসেছে এই কিশোর।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমণ্ডি ৩২-এর আশপাশ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দুটি বই এবং ‘স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করা’ ইট বহন করায় তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মায়ের জিম্মা ও মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
মুক্তি পাওয়ার পর ভাইরাল ভিডিওতে নিজনকে বলতে শোনা যায়—
“আমাকে মুচলেকা দিতে হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাকে যদি আবার ধানমণ্ডিতে দেখে তাহলে আমাকে আবার গ্রেপ্তার করা হবে।”
তবে এমন সতর্কবার্তাও দমাতে পারেনি তার ইতিহাসপ্রেম। বরং আরও দৃঢ় কণ্ঠে সে বলেছে—
“ইনশাআল্লাহ, আমি আবারও ধানমণ্ডিতে যাব। আর এই ঐতিহাসিক পোড়া বাড়িই একদিন বাংলার এক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত হবে—এটাই আমার আশা।”
তার বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে।
ধারণা করা হচ্ছে, ‘পোড়া বাড়ি’ বলতে সে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের ভয়াবহ স্মৃতিকে বোঝাতে চেয়েছে।
ঘটনাটি তরুণদের ইতিহাসচর্চা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি নিয়ে কিশোরদের অনুসন্ধিৎসা বাড়ছে—এমন মন্তব্য করছেন অনেকেই।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে mixed প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বলছেন—“একজন কিশোরকে ভয় দেখিয়ে ইতিহাস থেকে দূরে রাখা ঠিক নয়।” আবার কেউ মনে করছেন—“নিয়ম-শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক।”
তবে নিজনের বক্তব্যে যে স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো—
ইতিহাস জানতে চাওয়া কোনও সময়েই তার কাছে অপরাধ নয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পর তার প্রতি জনমত ও সহমর্মিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।















