এখন ০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“বৃত্তি শুধু টাকা নয়, এটা স্বীকৃতি”—বৈষম্যের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ “আমি শিশু, আমার কেন বৈষম্য?”, “পরীক্ষা আমার ন্যায্য অধিকার!”—এমন নানা দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংগঠকরা।
পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে পঞ্চগড় জেলা কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি ও শিক্ষক কল্যাণ সংস্থা। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকরাও অংশ নেন।
প্ল্যাকার্ডে ছিল: “জুলাই বিপ্লবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই!” “প্রাথমিক বৃত্তিতে বৈষম্য কেন?” “আমার বন্ধুর সাথে আমার কোনো বৈষম্য নাই” “শিশুর অধিকার নিয়ে খেলবেন না” “পরীক্ষা আমার ন্যায্য অধিকার”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা পরিপত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হলেও কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখা হয়েছে, যা স্পষ্ট বৈষম্য।
বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন, “২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এবং সর্বশেষ ২০২২ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করে দুর্দান্ত ফলাফল অর্জন করেছিল। অথচ এবার সেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না—এটা শুধু বৈষম্য নয়, বরং শিশুদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার নামান্তর।”
তারা আরও বলেন, “বৃত্তি মানে শুধু টাকা নয়—এটা আত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্বীকৃতি, একধরনের অনুপ্রেরণা। যখন একজন শিশু দেখবে তার বন্ধু বৃত্তি পাচ্ছে অথচ সে পাচ্ছে না, শুধুমাত্র তার প্রতিষ্ঠানের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণে—তখন সেই শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
পঞ্চগড় জেলা কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির সভাপতি মো. সোয়েব আলী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. তোজাম্মেল হক বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। সেই বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন আবারো বৈষম্যের শিকার না হয়। আমরা চাই সরকার এই বৈষম্যমূলক পরিপত্রটি বাতিল করে সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করুক।”
তারা আরও বলেন, ১৭ জুলাইয়ের পরিপত্র বাতিল করতে হবে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় শিক্ষানীতির ‘সমতার নীতি’ বাস্তবায়নে সবধরনের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে একটি স্মারকলিপিও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ সংগঠনটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস স্মরণোৎসব, পরিবেশিত হলো লালনসংগীত

“বৃত্তি শুধু টাকা নয়, এটা স্বীকৃতি”—বৈষম্যের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ “আমি শিশু, আমার কেন বৈষম্য?”, “পরীক্ষা আমার ন্যায্য অধিকার!”—এমন নানা দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলো কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষা সংগঠকরা।
পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে পঞ্চগড় জেলা কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি ও শিক্ষক কল্যাণ সংস্থা। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকরাও অংশ নেন।
প্ল্যাকার্ডে ছিল: “জুলাই বিপ্লবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই!” “প্রাথমিক বৃত্তিতে বৈষম্য কেন?” “আমার বন্ধুর সাথে আমার কোনো বৈষম্য নাই” “শিশুর অধিকার নিয়ে খেলবেন না” “পরীক্ষা আমার ন্যায্য অধিকার”
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে জারি করা পরিপত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হলেও কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখা হয়েছে, যা স্পষ্ট বৈষম্য।
বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন, “২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এবং সর্বশেষ ২০২২ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করে দুর্দান্ত ফলাফল অর্জন করেছিল। অথচ এবার সেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না—এটা শুধু বৈষম্য নয়, বরং শিশুদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার নামান্তর।”
তারা আরও বলেন, “বৃত্তি মানে শুধু টাকা নয়—এটা আত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্বীকৃতি, একধরনের অনুপ্রেরণা। যখন একজন শিশু দেখবে তার বন্ধু বৃত্তি পাচ্ছে অথচ সে পাচ্ছে না, শুধুমাত্র তার প্রতিষ্ঠানের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণে—তখন সেই শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
পঞ্চগড় জেলা কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির সভাপতি মো. সোয়েব আলী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. তোজাম্মেল হক বলেন, “জুলাই বিপ্লবের শহীদরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন। সেই বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন আবারো বৈষম্যের শিকার না হয়। আমরা চাই সরকার এই বৈষম্যমূলক পরিপত্রটি বাতিল করে সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করুক।”
তারা আরও বলেন, ১৭ জুলাইয়ের পরিপত্র বাতিল করতে হবে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় শিক্ষানীতির ‘সমতার নীতি’ বাস্তবায়নে সবধরনের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে একটি স্মারকলিপিও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ সংগঠনটি।