এখন ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রমাণ ছাড়া ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলা মানে মানহানি — আইন ও মানবাধিকারের চরম অবমাননা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি লায়ন মোঃ এএইচ রোমিও-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের কাগজে প্রকাশ করে এবং বহিষ্কার করার ঘটনায় আইনি ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, “এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমাদের শুধু সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নই করেনি, বরং পেশাগত জীবনকেও বিপর্যস্ত করেছে।”

আইনের চোখে এই ঘটনা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি অন্যকে লজ্জিত বা অপমানিত করার উদ্দেশ্যে, অথবা অন্যের সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা প্রমাণহীন অভিযোগ করে, সে ব্যক্তি মানহানির অপরাধে দায়ী।”

দণ্ডবিধি ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় উল্লেখ আছে—প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করে কারো সম্মান ক্ষুণ্ণ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

একজন প্রখ্যাত আইনজীবী বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলা সরাসরি মানহানির শামিল। অভিযোগকারীকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ না করতে পারলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং প্রমাণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা শুধুমাত্র আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।”

দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যা অনুসারে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়ভার থাকে অভিযোগকারীর উপর। অর্থাৎ, অভিযোগকারীকে অবশ্যই দেখাতে হবে যে অভিযোগটি ন্যায্য ও প্রমাণিত। অন্যথায়, সেটি মানহানির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে—কিন্তু কোনো নথি বা সাক্ষ্য দেখানো হয়নি। অথচ গণমাধ্যম ও সংস্থার কাগজে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে আমাদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত জীবন ধ্বংস হয়েছে।”

দণ্ডবিধি ৫০০ ধারা অনুযায়ী, যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তা প্রকাশ্যে বলা হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।”

আইনজীবীরা মনে করছেন, লায়ন মোঃ এএইচ রোমিও ও অন্যান্য ভুক্তভোগী এই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া বহিষ্কার করা পুরোপুরি বেআইনি এবং আইনের লঙ্ঘন। এতে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত জীবন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

অতএব, গণমাধ্যম বা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রমাণ ছাড়া কোনো নাগরিককে ‘দুর্নীতিবাজ’ বললে তা সরাসরি দণ্ডবিধি ৪৯৯ ও ৫০০ ধারার আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আদালতে মামলা দায়ের করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার চাইতে পারেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ন্যায্য বিচার ও স্বচ্ছ প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণই একটি সুস্থ সমাজের প্রতীক। প্রমাণ ছাড়া কারো সম্মানহানি বন্ধ হোক—এই প্রত্যাশা সকলের।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে উপজেলা পরিষদে এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

প্রমাণ ছাড়া ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলা মানে মানহানি — আইন ও মানবাধিকারের চরম অবমাননা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি লায়ন মোঃ এএইচ রোমিও-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের কাগজে প্রকাশ করে এবং বহিষ্কার করার ঘটনায় আইনি ও মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, “এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমাদের শুধু সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নই করেনি, বরং পেশাগত জীবনকেও বিপর্যস্ত করেছে।”

আইনের চোখে এই ঘটনা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি অন্যকে লজ্জিত বা অপমানিত করার উদ্দেশ্যে, অথবা অন্যের সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা প্রমাণহীন অভিযোগ করে, সে ব্যক্তি মানহানির অপরাধে দায়ী।”

দণ্ডবিধি ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় উল্লেখ আছে—প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করে কারো সম্মান ক্ষুণ্ণ করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

একজন প্রখ্যাত আইনজীবী বলেন, প্রমাণ ছাড়া কাউকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলা সরাসরি মানহানির শামিল। অভিযোগকারীকে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ না করতে পারলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং প্রমাণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা শুধুমাত্র আইনের লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।”

দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যা অনুসারে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়ভার থাকে অভিযোগকারীর উপর। অর্থাৎ, অভিযোগকারীকে অবশ্যই দেখাতে হবে যে অভিযোগটি ন্যায্য ও প্রমাণিত। অন্যথায়, সেটি মানহানির অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে—কিন্তু কোনো নথি বা সাক্ষ্য দেখানো হয়নি। অথচ গণমাধ্যম ও সংস্থার কাগজে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে আমাদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত জীবন ধ্বংস হয়েছে।”

দণ্ডবিধি ৫০০ ধারা অনুযায়ী, যদি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তা প্রকাশ্যে বলা হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।”

আইনজীবীরা মনে করছেন, লায়ন মোঃ এএইচ রোমিও ও অন্যান্য ভুক্তভোগী এই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া বহিষ্কার করা পুরোপুরি বেআইনি এবং আইনের লঙ্ঘন। এতে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত জীবন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

অতএব, গণমাধ্যম বা কোনো প্রতিষ্ঠান প্রমাণ ছাড়া কোনো নাগরিককে ‘দুর্নীতিবাজ’ বললে তা সরাসরি দণ্ডবিধি ৪৯৯ ও ৫০০ ধারার আওতায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আদালতে মামলা দায়ের করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার চাইতে পারেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ন্যায্য বিচার ও স্বচ্ছ প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণই একটি সুস্থ সমাজের প্রতীক। প্রমাণ ছাড়া কারো সম্মানহানি বন্ধ হোক—এই প্রত্যাশা সকলের।